পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পরিচয়ে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের এক নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি রাজ্জাক মন্ডল। তিনি ওই এলাকার মৃত রহিম মন্ডলের ছেলে এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুন্নবী চৌধুরীর চাচাতো ভাই।
রাজ্জাক মন্ডলের পরিবারের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিবেশি মিজু নামে এক ব্যক্তি তাকে ফাঁসিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজ্জাক মন্ডল সোনাহাট বাজারে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে বাজার সদাই করতে যান। এ সময় ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি রাজ্জাক মন্ডলকে আটক করে তাকে তার মোটরসাইকেলের কাছে নিয়ে আসেন। রাজ্জাক মন্ডল সবার সামনে তাকে তল্লাশি করার দাবি করলে ‘ডিবি’ পরিচয় দেওয়া লোকজন রাজ্জাকের দেহ তল্লাশি না করে সরাসরি তার মোটরসাইকেলের সিট খুলে সেখান থেকে মাদক উদ্ধার করেন।
এসময় রাজ্জাক মন্ডল উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে সবাই ভিডিও করেন। আপনারা জানেন এগুলো আমি জীবনে ছুঁয়ে দেখিনি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এগুলো মিজু (রাজ্জাকের প্রতিবেশি) গাড়িতে দিয়ে আমাকে ফাঁসিয়েছে।’ পরে তাকে নিয়ে বাজার এলাকা ত্যাগ করেন ডিবি পরিচয় দেওয়া দলটি।
রাজ্জাক মন্ডলের স্ত্রী রহিমা খাতুন জানান, তার স্বামী মাদক ব্যবসাতো দূরের কথা কখনও মাদক ছুঁয়েও দেখেন না। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মিজু নামে তাদের এক প্রতিবেশি তার স্বামীর মোটরসাইকেলে মাদক রেখে তাকে ফাঁসিয়েছে বলে দাবি করেন রহিমা।
রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন। আমার স্বামী মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট এটা প্রমাণ হলে আমি নিজে তার ফাঁসি চাইবো। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার স্বামীর কোনো খোঁজও আমাকে জানানো হচ্ছে না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্জাক মন্ডলের এক প্রতিবেশি এই প্রতিবেদককে জানান, ‘রাজ্জাকের সাথে মিজুর দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলছে। তাকে (রাজ্জাককে) সম্ভবত ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এলাকার লোকজন কখনও তার (রাজ্জাক) মাদকের সাথে জড়িত থাকার খবর পাইনি। এমনকি এলাকায় যারা মাদক সেবন করে তারও রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মাদকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দিতে পারবে না।’
সোনাহাট ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম দুদু বলেন,‘রাজ্জাকের সাথে তার প্রতিবেশি মিজানুর রহমান মিজুর জমি নিয়ে ঝামেলা চলছিল। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি ওই মিজু রাজ্জাককে ফাঁসিয়েছে। রাজ্জাক কখনই মাদকের সাখে জড়িত ছিল না।’ ঘটনার পর থেকে মিজানুর রহমান মিজু গা ঢাকা দিয়েছেন এবং তিনি স্থানীয় ‘ভূমিদস্যু’ বলে দাবি করেন দুদু।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুন্নবী চৌধুরী জানান, ‘রাজ্জাক মন্ডলকে ফাঁসানো হয়েছে। কাল সন্ধ্যায় তার মোটরসাইকেলে মাদক রেখে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে মিজু নামে স্থানীয় এক ভূমিদস্যু তাকে ফাঁসিয়েছে।’ মাদকের সাথে রাজ্জাকের সংশ্লিষ্টতা কখনও ছিল না বলেও দাবি করেন উপজেলার এই প্রবীন রাজনীতিক।
রাজ্জাক মন্ডলের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ এবং তাকে ফাঁসানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজানুর রহমান মিজুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসির নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে সোমবার দুপুরে ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে গিয়ে ওসি আতিকুর রহমানের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা দেখান।
সুজন মোহন্ত/বার্তা বাজার/এসজে