মৃত্যুর আরেক ফাঁদ মহাসড়কের ইউটার্ন

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া থেকে ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের মাঝখানে ডিভাইডারের ফাঁকে ফাঁকে ৮টি ইউটার্ন রয়েছে। সড়কে অবস্থিত প্রত্যেকটা ইউটার্ন পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ইউটার্ন দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে পার হতে দেখা যায়। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিন দেখা যায়, ৮টি ইউটার্ন এর মধ্যে হিজলতলা বাজার থেকে নাজিরাবগ পর্যন্ত ৩টি ইউটার্ন বেশী ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

কয়েকজন গাড়ি চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঝিলমিল আবাসিক এলাকার কাছা কাছি ইউটার্নে আসলে ফ্লাইওভারে উঠার জন্য এবং বিপরীত দিক থেকে ফ্লাইওভার থেকে নামার জন্য গাড়িগুলো গতি বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে ইউটার্নে ৩/৪ দিক থেকে গাড়ি মুখোমুখি হয়ে যায়।

হিজলতলা বাজার ও মাঠের কোণার দুটি ইউটার্ন বেশী ব্যবহার করে গাড়িগুলো। ইউটার্নে কোন নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় কোনো রকমের নিয়ম শৃঙ্খলা না মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানগুলোকে সড়ক ক্রসিং করে তড়িঘড়ি করে পার হতে দেখা যায়।

পাশাপাশি উল্টো সড়কে যান চলাচলের কারণে ইউটার্ন নেওয়ার সময় যানবাহনগুলোকে পড়তে বিপাকে। ইউটার্ন নেওয়ার সময় বেশী ঝুঁকিতে ফেলে ইজিবাইক, আটোরিকশা ও মটরসাইকেলগুলো। বিশেষ করে কিছু ভ্যান, আটোরিকশা, ট্রাক ও পিকআপ চালক ইউটার্নে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।

তাছাড়া যানবাহনগুলো ইউটার্নের কাছাকাছি এলে গতি না কমিয়ে ইউটার্ন নিয়ে উল্টো সড়কে দ্রুত চালিয়ে চলে যায়। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাড় হচ্ছে হাজার হাজার যান। অন্যদিকে কদমতলী থেকে বাবুবাজার সেতুর প্রবেশ মুখ ও কদমতলী থেকে জনি টাওয়ার পর্যন্ত যে ইউটার্নগুলো রয়েছে সেগুলোরও হচ্ছে না সঠিক ব্যবাহার।

স্থানীয়রা জানান, ইজিবাইক ও আটোরিকশাসহ সকল যান উল্টো সড়কে চলাচলের কারণে ইউটার্ন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে দেখা যায়। এর ফলে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে সড়ক ক্রসিং করে পার হওয়ার কারণে এখানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কদমতলী এলাকায় তো ট্রাফিক পুলিশ থাকা সত্বেও সঠিক ভাবে ইউটার্ন ব্যবহার করছেনা যানবাহনগুলো, যে যেভাবে পারে সেভাবেই এক সড়ক থেকে অন্য সড়কে চলে যায়। অনেক সময় এক পাশের সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল দিলে উল্টো সড়কে গাড়িগুলো চলে আসে।

জসিম নামে এক দোকানী জানান, ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে যান চলাচলে ফলে এখানে প্রতিনিয়ত ছোট বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে ইজিবাইক ও আটোরিকশার বেপরোয়ার চলাচলের কারণেই বেশী দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার শিকার বেশিরভাগই বাইক চালক।

ঢাকা জেলা ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের ইন্সেপেক্টর পিজুষ কুমার মালো জানান, এবিষয়ে আমারা পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে ইউটার্ন সঠিক ব্যবহার না করা ও সড়কে উল্টো পথে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে দাবি তার। এদিকে ইউটার্নগুলোকে বেশী ঝুঁকিতে ফেলে ইজিবাইক ও আটোরিকশা চালকরা কিন্তু ডাম্পিং না থাকায় বেপরোয়া ইজিবাইক ও আটো রিকশা বন্ধের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

রানা আহমেদ/ বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর