‘জিয়ার লাশ গুমের মামলা প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করবে’
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ কবর থেকে গুমের অপরাধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ভবিষ্যতে মামলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
রোববার (০৫ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দনে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘অর্থনীতির সূচকে আমরা এক নম্বরে আছি মুদ্রা পাচারে। র্যঙ্ককিং এ আছি দুর্নীতিতে, আমরা র্যঙ্ককিং এ আছি মিথ্যা কথায়, র্যঙ্ককিং এ আছি বাটপারিতে। অর্থ্যাৎ একটা রাষ্ট্রে জনগণের জন্য যত করিত্রিকারক সূচক আছে সব সূচকের মধ্যে আমরা র্যঙ্ককিং এ আছি। আর এইসব সাবজেক্টে যদি নোবেল পাওয়া যেত, তাহলে শেখ হাসিনা কম হলেও একশটি নোবেল প্রাইজ পেতেন। গুমে পেতেন, খুনে পেতেন’।
ওইদিন যে জোর গলায় বললেন, যে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই। আমি যদি বিশ্বাস করি নাও থাকতে পারে। কেন? উনি কনফার্ম না হলে এ কথা বলেন কেমনে? ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে, অমুক গুম হয়েছে এটা তো জানতো মানুষ- আমরা জানি। লাশও যে গুম হইতে পারে আমার মনে হয় ভবিষ্যতে লাশ গুমের একটা মামলা প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করবে’।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি কোন সময় সরকারে আসে, জিয়ার রহমানের কবর থেকে যে কোন ভাবে আমাদেরকে দেখতে হবে লাশটা আছে কি না। যদি না থাকে, এই প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হবে। স্বঘোষিত বলছিলেন না- লাশ নাই? লাশ না থাকলে তো তিনি জানেন কোথায় রাখছেন। এটার জন্য একটা নোবেল পুরষ্কার পাইতে পারে লাশ গুম করার’।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা তো কথা শুনি। একটু ভাল থাকার জন্য উত্তর দেই না। মামলা খাওয়ার জন্য উত্তর দেই না। নো। প্রত্যেকটার কথার জবাব খুব শক্ত ভাবে দিতে হবে। এবং সততার ভিত্তিতে দিতে হবে। মিথ্যার উপর ভর করে দিলে হবে না। আবার যেমন দেবতা তেমন ভোগ। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহজ পথের সহজ পথের মধ্যেও প্রতিবাদের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। আমার বাস বন্ধ করার অধিকার আছে আমার বাস চালানোর অধিকার আছে। সুতারং জনগনের অধিকার আদায়ের করার জন্য যে কোন আন্দোলন গণতন্ত্র সম্মত ।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলু বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে সাইফুরের রহমানের নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। তিনি বলেন, সিলেট ষ্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থাপনার নাম আপনারা মুছে দিয়েছেন তো। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে সাইফুর রহমানের নাম মুছে ফেলতে পারবেন না। তিনি বলেন, রাজশাহীতে এক বক্তৃতা দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা খেয়েছি। বলেছিলাম- একুশ সাল শেখ হাসিনার শেষ সাল। আজকেও বলে গেলাম। এই একুশ সাল শেখ হাসিনার শেষ সাল।
১২ তম মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে মরহুম এম সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দনে কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল দোয়া ও শিরনী বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে ওই দিন সকাল সাড়ে দশটায় টায় প্রয়াত মন্ত্রীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্বা জানান এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের সদস্যরা। এরপর জেলা ও উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, তাতীঁদল, শ্রমিকদল, জাসাসসহ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এম সাইফুর রহমান এর পুত্র জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমানসহ পরিবারের সদস্য ও জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সৈয়দ তৌফিক আহমদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদ ড.আব্দুল মতিন চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বকশী মিছবাহ উর রহমানের যৌত সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি ও এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এম নাসের রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলু, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌর সভার সাবেক মেয়র আলহাজ জিকে গাউছ, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, ফয়ছল আহমদ,শওকুতুল ইসলাম শকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ফখরুল ইসলাম, জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন উজ্বল,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জি এম মোক্তাদির রাজু,জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান,শ্রমিকদলের জেলা সভাপতি রশিদ আহমদ ও উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুল হাফেজ,জিতু মিয়া, জামি আহমদ, মিজানুর রহমান নিজাম, ফরহাদ রশিদ প্রমুখ।
এদিকে বাদ যোহর ও বাদ আসর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মসজিদগুলোতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্দ্যোগে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ,দোয়া ও শিরণী বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ভাষাসৈনিক এম সাইফুর রহমান বাণিজ্য মন্ত্রী, একাধিকবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১২ টি বাজেট পেশ করেছেন। তিনি ভ্যাটের প্রবর্তক ছিলেন। ২০০৯ সালের এই দিনে এম সাইফুর রহমান মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের খড়িয়ালা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
বার্তা বাজার/এসজে