টাকা ছাড়া ওষুধ মিলে না মেরাখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকে

বান্দরবান লামা উপজেলা সদর ইউপির মেরাখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সুলতানা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সিএইচসিপি কর্মীর বিরুদ্ধে জনস্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর গণস্বাক্ষরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্লিনিক পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেরাখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকের ‘সিএইচসিপি’ সুলতানা ইয়াসমিন ক্লিনিকে যোগদানের পর থেকে নিজের ইচ্ছেমত অফিস করছেন। নির্ধারিত সময়ের আগে অফিসে আসেনা, আসলেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করে না। অভিযোগ আছে তিনি সপ্তাহে ১দিন কিংবা ২দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে আসেন। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন তার ছোট বোন (এমএইচভি) উম্মে সালমা।

বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ঔষুধ টাকার বিনিময়ে প্রদান করে। প্রতি রোগীর কাছ থেকে ১০টাকা করে নেয়। কোন গরীব অসহায় টাকা দিতে অপারগ হলে তার প্রতি দুর্ব্যবহার করে কোনরূপ ঔষুধপত্র সরবরাহ করা হয় না। এমনকি কোন রোগীর একাধিক আইটেমের ওষুধ প্রয়োজন হলে তা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নিতে হয়।

অত্র ক্লিনিকের এমএইচভি (মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার) সবাই তার আত্মীয়-স্বজন হওয়াতে তার নিয়ন্ত্রণাধীন থাকতে বাধ্য। জঘন্যতম বিষয় হলো এমএইচভির বেতন-ভাতা জমা হওয়ার সময় হলে নানা কৌশলে তাদের স্বাক্ষরযুক্ত খালি চেক নিয়ে একাউন্টে টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথেই সুবিধামতো অংকে টাকা উত্তোলন করে ফেলেন। চাকরি হারানোর ভয়ে এমএইচভিরা কোন প্রতিবাদ করেনা।

এছাড়া ক্লিনিকের হেলথ্‌ প্রোভাইডার সুলতানা ইয়াসমিন স্থানীয় হওয়ায় রাজকীয় প্রভাব প্রয়োগ করে রোগীদের সাথে খারাব ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রেও জানা যায় এবং ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির সাথে অশ্রদ্ধা মূলক আচরণ সহ ছোটখাটো বিষয় নিয়ে যে কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার সাধারন লোকজন স্বাস্থসেবা নিতে এসে ঠিকমত তাকে পায়না। টাকা না দিলে রোগীদের বলেন ওষুধ নেই। যদিও ঔষধ রোগীকে না দিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বস্তা ভর্তি করে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয় জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় এমনটি হচ্ছে। জেলা/উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ কেউই সঠিকভাবে তদারকি করছেন না।

এবিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিউদ্দীন মাজেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে সে বিষয়ে তদন্ত করতে মেডিকেল অফিসার ডা. মনিরুজ্জামান মোহাম্মদকে প্রধান করে ৩সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগগুলো বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর