পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর ইউনিয়নের খালগোরা বাজার সংলগ্ন দারছিরা নদীতে ব্রিজ না থাকায় লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া নির্ভর হতে হচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়ায় পার হয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে ওই উপজেলার মানুষগুলোর।
রাঙ্গাবালী উপজেলার সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪ (রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া), রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন ও কলাপাড়া উপজেলার সাথে রাঙ্গাবালী উপজেলার দেড় লক্ষ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ওই দারছিরা নদী।
প্রতিদিন কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি অন্যান্য পেশার মানুষকে খেয়া পার হয়ে ওই নদীটি অতিক্রম করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। যা অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বঙ্গোপসাগরের উত্তর মোহনা আগুনমূখা নদীর একটি প্রশাখা ওই দারছিরা নদী। ৭০ এর দশকে ওই নদীর খরস্রোত থাকলেও কালের স্রোতে নদীটি প্রাঁণহীন হয়ে পরেছে। দারছিরা নদীর একাংশ পলি মাটিতে ভরে সৃষ্টি হয় বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন।
যে ইউনিয়নে অন্তত ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু ওই ইউনিয়নের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে উপজেলা সদরকে কেন্দ্র করে। প্রতিদিন বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মানুষ খেয়া নৌকার মাধ্যমে নদী পার হয়ে কাজ-কর্ম সমাপ্ত করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার অতিক্রম করে খালগোরা বাজার (ব্যবসায়িক বন্দর) এছাড়াও রাঙ্গাবালী উপজেলা এবং খালগোড়া বন্দরকে ঘিরে রয়েছে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্যাংক-বীমা এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রসারিত হয়েছে। খালগোড়া বাজারের পাশেই দারছিরা নদীর অবস্থান।
এর ওইপাড়ে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন। আর খালগেড়া বাজার সংলগ্ন একটি খেয়াঘাট। খেয়াটি পার হয়ে ওই ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে নির্ভর উপজেলা সদর ইউনিয়ন। কিন্তু স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষের যাতায়াত করতে হয় খেয়ায় পার হয়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীটি পাড় হতে হয় প্রতিনিয়ত।
শীত মৌসুমে নদীটি নিস্প্রাণ থাকলেও বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে দারছিরা নদীটি ভয়াল রুপ ধারন করে। মুল কথা বঙ্গোপসাগরের সাথে নদীটি সংযোগ অত্যন্ত কাছা-কাছি হওয়ায় নদীটি মূলস্রোতে ফিরে যায়। ফলে ওই মৌসুমে সব বয়সী মানুষ নদী পাড় হতে গিয়ে ভয়ে ভীত হয়ে পরেন।
মাঝে মাঝে ঘটে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। তাই দারছিরা নদীর ওই অংশে একটি ব্রীজ জন গুরুত্ব হয়ে পরেছে। বিগত এক দশকে খেয়া পাড় হতে গিয়ে অন্তত শতাধিক দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বড়বাইশদিয়া এলাকার বেলাল চকিদার বলেন, ‘আমাগো দূর্ভোগ দেহার মতো মানুষ দেহিনা! জোয়ারের সময় তুফান আর ভাটার সময় হাটু পরিমান পানি কাঁদার মধ্যে ওই পারে (উপজেলা সদরে) যাওয়া লাগে।’
রাঙ্গাবালী কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘জোয়ারের সময় নদীর দিকে চাইলে বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠে! তখন সাহস হয়না যে নৌকায় উঠে কলেজে যাই।’
খালগোরা বাজার ব্যাবসায়ী সাইদুল জানান, ‘নৌকার পরিবর্তে একটি ব্রিজ নির্মাণ রাঙ্গাবালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। যোগাযোগের সু-ব্যবস্থা না থাকায় তারা আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে শুধু গ্রামবাসীসহ পুরো উপজেলার সর্বস্থরের লোকজনের লালিত স্বপ্ন পুরণ হবে।’
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হাসানাত আব্দুল্লাহ জানান, ‘আমাদের এ ইউনিয়নে হাসপাতাল ক্লিনিক এমনকি কোনো এমবিবিএস ডাক্তারও নেই। গ্রামে মধ্যরাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গর্ভবতীদের নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়, এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটে।
এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। এ দাবি কেউ বাস্তবায়িত করেনি। যার জন্য এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুল কবির জানান, ‘ব্রিজ না থাকায় বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন ও খালগোরা বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার সাধারন মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর ওখানে একটি ব্রীজ তৈরী করার প্রস্তাব করেছি। যথা সম্ভব তা শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে।’
সাইফুল ইসলাম সায়েম/বার্তা বাজার/টি