শহীদ মিনার ও বিদ‍্যালয়ের মাঠ দখল করে সাপ্তাহিক হাট

শহীদ মিনার ও বিদ‍্যালয়ের মাঠ দখল করে বসছে সাপ্তাহিক হাট। বিদ‍্যালয়ের আশপাশ ঘেঁষে পরে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তুপ।

সেখান থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এটি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগন্ঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ ১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র।

বিদ‍্যালয়টিতে দীর্ঘদিন যাবত হাঁট বসানোসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছে হাট-বাজার কর্তৃপক্ষ। এতে করে সেখানে যেমন মশা, মাছির উপদ্রব বাড়ছে, তেমনি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এরই মাঝে আগামী ১২ তারিখে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

হাসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও মাঠ বেদখল হওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে ভিতর গুরুত্বপূর্ণ এই স্কুল মাঠে দিনের পর দিন বাজার বসানোসহ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কিন্তু সংশ্লিষ্ঠকর্তৃপক্ষ তা সরাতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

শুক্রবার ও শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের মাঠ ও শহীদ মিনারে বিশাল বড় হাঁট বসেছে। ছায়াপরশ ও শহীদ মিনার ঘেঁষে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। শহীদ মিনারে উপর জুতা পায়ে হাটছে বাজারে আসা লোকজন ও অস্থায়ী দোকান বসিয়েছে। এতে করে একুশের চেতনার উপর আঘাত করা হচ্ছে।

বিদ‍্যালয়ের মাঠে পড়ে আছে আখের পাতা, আখের গুড়িসহ বিভিন্ন ময়লা আর্বজনা।ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো পঁচে গিয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে ওই এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।

বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো : আজিজুল হক বলেন, আমরা বার বার চেষ্টা করেও হাট বন্ধ করতে পারছিনা।

বিদ‍্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এমদাদূল হক খান মিঠু বলেন, ইজারাদারকে এখনি ফোন করে বলে দিচ্ছি ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করার জন‍্য। বাধার কারণে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে পারিনা। মাঠ থেকে হাট সরিয়ে না নিলে ইউএনও স‍্যারের সাথে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ নিব।

হাটের ইজারাদার মোস্তফা মেম্বার বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পরিস্কার করা হয়নি। দুই এক দিনের মধ‍্যে মাঠ পরিস্কার করা হবে।

হাসনাবাদ বাজার ব‍্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, আমার জানা মতে প্রাচীর নির্মাণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। যাতায়াতের ব‍্যবস্হা রেখে প্রাচীর নির্মাণ করা হলে কোনো সমস্যা নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।

এই ব‍্যাপারে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো : আজগর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে

রেজাউল করিম/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর