‘কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় একটি ব্যাটারি চালিত রিক্সা কিনে মরার উপর খাড়ার গায়ে পরিণত হয়েছে। রিক্সা তো রাস্তায় নামাতে পারছিনা। উপরোন্তু ওই রিক্সা পাহারায় চোরের ভয়ে রাত জেগে বসে থাকতে হয়। আগে মানুষের বাড়ি গিয়ে কাজ করে ২/৩ শত টাকা পেতাম। ছেলে মেয়ে নিয়ে কোনরকম সংসার চলছিল। অচল দারিদ্রতার অষ্টপৃষ্টে বাঁধা এ পরিবারকে আরেকটু স্বচ্ছলতার দ্বারপ্রান্তে নিতে গিয়ে অভাব অনটনে পুরো সংসারটাই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অভাব সইতে না পেরে ইতিমধ্যে আমার স্ত্রী কাউকে না জানিয়ে বাপের বাড়িতে চলে গেছে।’
কথাগুলো বললেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার অন্যতম দরিদ্র এলাকা রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা গ্রামের হতদরিদ্র এক রিক্সাচালক।
সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কে বা কারা রাতের আধাঁরে রাস্তার ভাঙ্গাচুরা ইটগুলো তুলে নিয়ে গেছে। যে কারণে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ।
টমটম চালক আলা উদ্দিন জানায়, এ সড়কে প্রতিনিয়ত ২৯টি টমটম চলাচল করে।
উখিয়া ভূমি অফিসের সামনে স্থিত টমটম পার্কিংয়ে কর্তব্যরত লাইনম্যান আবু ছৈয়দ জানায়, কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের জাদিমুরা বটতলী হয়ে হরিণমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল এক যুগ আগে। এ সড়কে চোরাই বালি পরিবহনের ফলে ইটগুলো খন্ড খন্ড হয়ে মাটির ভিতর ঢুকে গেছে। যে সমস্ত ইটগুলো ব্যবহার উপযোগী ছিল ওই সমস্ত ইটগুলো তুলে নেওয়ার কারণে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ১৮ হাজার মানুষ উখিয়া স্টেশনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছে না। এমন অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহানের।
তিনি বলেন, সড়কটি ২০২০ সালের শেষের দিকে কার্পেটিং করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও তার কোন হদিস নেই। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাতে পেরেছি ওই ঠিকাদার নাকি লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। বড় মাপের ঠিকাদার হওয়ার কারণে খোদ উপজেলা প্রকৌশলী পর্যন্ত তার কাছে জিম্মি, এমনটি অভিযোগ করলেন ওই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বৃষ্টি কমলে কাজ শুরু হবে। তবে ওই প্রকল্পের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য শত চেষ্টা করেও তার মুখ খুলতে পারিনি।
রাজাপালং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ কামাল চৌধুরী বলেন, হরিণমারা সড়কের যে পরিণতি হয়েছে তাতে মনে হয় এ উপজেলার মানুষ আপনদেশে পরবাসের মত জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। তারা যদি নুন্যতম নাগরিক সুবিধাটুকু না পায় তাহলে এখানকার ছেলে মেয়েদের অনাগত ভবিষ্যত অন্ধকার এটা নিশ্চিত ধরে নিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃষ্টি কমলে এ উপজেলায় যে সমস্ত রাস্তাঘাট, অবকাঠামো, ব্রীজ কালভার্ট নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো মেরামতের আওতায় আনা হবে।
বার্তা বাজার/এসজে