শভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই নদী উত্তাল হওয়ায় তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষজন। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠাসহ বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
তেঁতুলিয়ার অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার কুতুবা ও গঙ্গাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কিছু অংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটছে এই দুই ইউনিয়নের মানুষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ্য গঙ্গাপুর ইউনিয়নের একাধিক বসতবাড়ী নদীতে চলে গেছে, যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা।
১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, তাদের ঘর, মাছের ঘের, ফসলি জমি সবই নদীতে চলে গেছে।
গঙ্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রিয়াজ জানান, ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের ধারিয়া ও ধানিভাঙ্গা এলাকা অধিকাংশ ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। অন্য এলাকাগুলোও ভাঙনের হুমকির মুখে আছে। দ্রুত স্থায়ী ব্লক স্থাপন করা না হলে এই ইউনিয়নের অর্ধেক নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
কুতুবা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া জানান, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে তেঁতুলিয়া নদী কমবেশি ভাঙ্গে। কিন্তু এবার অতীতের তুলনায় ভাঙনের মাত্রা অনেক বেশি। তার ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৫ নং ওয়ার্ড ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ব্লক না থাকায় বেড়ীবাধটিও যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলার এক পাশে মেঘনা ও অন্য পাশে তেঁতুলিয়া নদী। মেঘনা অপেক্ষাকৃত অগ্রাসী হওয়ায় ওই নদীকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত শান্ত তেঁতুলিয়া নদী চলতি বছরই সবচেয়ে বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে। মেঘনার পাশাপাশি তেঁতুলিয়া নদীরও ভাঙন কবলিত এলাকায় নজরে আনা হচ্ছে।
কাজী আল-আমিন/বার্তা বাজার/এসজে