যোগ্যতা নেই: সরকারি চাকরি পাচ্ছেন অসংখ্য নার্স!

তথ্য গোপন করে নেওয়া হয়েছে নার্স নিয়োগের পরীক্ষা। এতে করে হয়েছে নিয়োগের জটিলতা। অযোগ্য পার্থীরাও পাশ করেছেন প্রায় দুই হাজার ৩৫০ জন নার্স।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ‘মেধাক্রম অনুসারে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দিলে কোন জটিলতা হতো না। যারা যোগ্য তাদের মূল্যায়ন না করে অযোগ্যদের মূল্যায়িত করা হচ্ছে।’

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের ফল বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন নার্সিং কাউন্সিলের নিবন্ধিত নার্সরা। তারা পরবর্তী মেধাক্রম অনুসারে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাবর এ আবেদন করেছেন।

নার্সিং কাউন্সিলের নিবন্ধিত নার্সরা আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘‘গত বছরের ১ মার্চ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ ছিল যে, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রার্থীকে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল কর্তৃক নিবন্ধিত হতে হবে (প্রমাণ পত্র সংযুক্ত)। কিন্তু আবেদনের সর্বশেষ তারিখ গত বছরের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের নিবন্ধিত না হয়েও অনেক পরীক্ষার্থী আবেদন করে এবং প্রথমে প্রিলিমিনারি ও সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ আগস্ট বিপিএসসি’র সরাসরি নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। যা তথ্য গোপন ও আইনের লঙ্ঘনের শামিল।

এতে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের নিবন্ধিত অনেক যোগ্য পরীক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে। আবেদন চলাকালীন সময়ে যারা নার্সিং কাউন্সিল কর্তৃক নিবন্ধিত ছিল না তাদের সুপারিশ করা ফল বাতিল করে পরে মেধাক্রম অনুযায়ী যোগ্য রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত প্রার্থীদের সুপারিশ করার জন্য জোর আবেদন জানাচ্ছি।’’

নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত এক নার্স বলেন: ‘আমার মতো অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন নার্স রয়েছে। যারা যোগ্য তাদের মূল্যায়ন না করে অযোগ্যদের মূল্যায়িত করা হচ্ছে। আমরা চাই যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হোক।’

গত ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৮ হাজার ২৮৮ জন। পিএসসির ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের অধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের দশম গ্রেডে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী উল্লেখিত রেজিস্ট্রেশন নম্বরধারী প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।;

গত বছরের ১ মার্চ আড়াই হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। গত ২৮ জানুয়ারি এ পদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান বিষয়ে মোট ১০০টি প্রশ্ন ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এমসিকিউর ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ হন ১৫ হাজার ২২৮ জন। এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পিএসসির ওয়েবসাইটে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর