২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

যন্ত্রণাহীন আত্মহত্যার যন্ত্র আসছে বাজারে!

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০১৮

যন্ত্রণাহীন আত্মহত্যার যন্ত্র আসছে বাজারে!

খুব শিগগিরই বাজারে আসতে যাচেছ অতি সহজে আত্মহত্যা করার যন্ত্র। মান-অভিমান কিংবা হতাশা থেকে কোনো কোনো দুর্বল হৃদয়ের মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আবার এমন মানুষও আছেন যারা অনিরাময়যোগ্য দীর্ঘ যন্ত্রণাময় অসুস্থতার কবল থেকে রক্ষা পেতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বেছে নিতে চান। নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু কামনা করা এমন ব্যক্তির জন্য হালে সহজ সমাধান হয়ে আসছে এক বিশেষ যন্ত্র। যার নাম ‘সারকো’।

অস্ট্রেলিয়ার স্বেচ্ছামৃত্যু বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিট ইন্টারন্যাশনাল’ এই বিশেষ যন্ত্রের আবিষ্কারক। মূলত মৃত্যুর পথ বেদনাহীন ও সহজ করাই এই মেশিনের কাজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই মেশিনের মাধ্যমে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ চোখের পলক ফেলার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফিলিপ নিৎস্ক জানান, ‘সারকো’ অন্য জিনিস। এটি আত্মহত্যার পথ অনেক সহজ হয়ে দেবে।

প্রাথমিকভাবে মেশিনটির থ্রিডি নকশা তৈরি করা হয়েছে। এই বছরের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডস’এ ‘সারকো’র কাজ সম্পূর্ণ হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বেচ্ছায় মৃত্যুতে আগ্রহী ব্যক্তিকে ওই মেশিনে শুইয়ে দেয়া হবে। এরপর মেশিনের বিশেষ চেম্বারে রাখা নাইট্রোজেন ভর্তি ক্যাপসুল প্রয়োগ করে কেড়ে নেয়া হবে জীবন।

নেদারল্যান্ডস’এ মেশিন তৈরির কাজ শেষ হলেও তা পরীক্ষা করতে পাঠানো হবে সুইজারল্যান্ডে। কারণ দেশটিতে আত্মহত্যা আইনত বৈধ।

ফিলিপ নিৎস্ক জানান, আত্মহত্যার মেশিন তৈরির এমন অদ্ভুত চিন্তার পেছনে কাজ করেছিল ২০১২ সালে রাগবি খেলোয়ার টনি নিকলসনের ঘটনা। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘকাল সঙ্কটজনক অবস্থায় টনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুর দাবি জানিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অনুমতি না মেলায় রাগবি খেলোয়াড়কে যন্ত্রণা নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে হয়।

তখনই ‘সারকো’ বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফিলিপ। ঠিক করেছিলেন টনির মতো যারা আরোগ্যের অযোগ্য রোগে ভুগছেন তাদের কষ্টের হাত থেকে মুক্তি দেবেন। এখন দেখার বিষয় ‘সারকো’ স্বেচ্ছায় মৃত্যুতে আগ্রহীদের মধ্যে কতোটা সাড়া ফেলে।