মহামারিতেও অদম্য বেরোবির চার নারী উদ্যোক্তা

করোনার ভয়াল গ্রাসে থমকে আছে পুরো পৃথিবী। এই প্রভাবের বাইরে নয় বাংলাদেশও। সংক্রমণ এড়ানোর জন্য দফায় দফায় বিভিন্ন মেয়াদে দেয়া হয় লকডাউন।বিভিন্ন সময় অফিস আদালত সাময়িক বন্ধ রাখলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে টানা দেড় বছর থেকে।অনলাইনে ক্লাস চললেও জমে না ক্যাম্পাসের আড্ডা। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বিপর্যস্ত।

শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এসব হতাশা কাটাতে অনেক শিক্ষার্থী হচ্ছেন উদ্যোক্তা, নিজেকে স্বাবলম্বী করতে স্বপ্নকে দিচ্ছেন বাস্তবিক রুপ, হয়েছেন সফলও। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এমনি ক’জন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার কথা তুলে ধরছি আজ।

সুরাইয়া যুথি, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ

শুরুটা কোভিডের মাঝে,যখন সবকিছু বন্ধ, আর বাসায় বসে বসে হতাশা, আর বিরক্তিকর সময় কাটাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ মাথায় আসল নিজে কিছু একটা করি,সময় কেটে যাবে আর সেই সাথে নিজের একটা পরিচয় তৈরি হবে।ঠিক তখনই নিজের সামান্য কিছু জমানো টাকা দিয়ে কিছু ড্রেস কিনে আনি।আলহামদুলিল্লাহ প্রথম দিনের অনলাইন মার্কেটিং এই অনেক ভালো রেসপন্স পেয়ে গেলাম সবার,সেই সাথে বেশ কয়েকটি ড্রেস প্রথম দিনেই সেল হয়ে গেল। শুরুটা আসলে এভাবেই, তারপর থেকে এভাবেই চলতে আছে।এখন অনেক রেগুলার কাস্টমার আমার,যারা প্রতিনিয়ত আমার কাছে থেকেই শপিং করছে। আর সবথেকে বড় কথা কোয়ালিটি, এটা ধরে রাখছি এজন্যই আর পিছিয়ে যেতে হয়নি।

 

সুরাইয়া যুথি। ছবি- বার্তা বাজার

 

সামনেও আরও বড় পরিসরে এগিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমার পেজ ❝Saj Collection❞ এটা নিয়ে সামনে আরও কিছু পরিকল্পনা আছে। আর সবকিছু মিলিয়ে আমার অন্য রকম কিছু অভিজ্ঞতা ও অনেক কিছু শিখেছি, এখনও শিখে যাচ্ছি,সামনে আরও শিখতে চাই।আর পরিবার, সিনিয়র, জুনিয়র সবাই অনেক সাহস দিয়েছে।সবমিলিয়ে এই ছোট ব্যবসার অবস্থা নিয়ে আমি আরও আশাবাদী, সামনে ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ, এ যাত্রায় সবাইকে পাশে চাই।

ইয়াছমিন স্বপ্না, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ

আমি যখন বিজনেস শুরু করি তখন অনেকে হাসাহাসি ও বিদ্রুপ করেছেন।আমি সেটাকে কখনো নেগেটিভ দেখিনি। আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেককে পাশে পেয়েছি সবসময় সাপোর্ট দেয়ার জন্য।

আমার এটা একটা স্বপ্ন ছিল যে, আমি যখন জব করবো প্রতিষ্ঠিত হব নিজের কিছু টাকা হবে সেটা দিয়ে আমি একটা বিজনেস শুরু করবো যেখানে কিছু লোকের কর্মসংস্থান হবে।করোনাকালীন সময়ে সকলের কেমন অবস্থা গেছে তা কারো অজানা নয়।

আমি বুঝতে পারছিলাম যে, খুব অলস হয়ে যাচ্ছি। নানারকম চিন্তাভাবনায় বিভোর থাকতাম। আমার মনে হলো আমায় ব্যস্ত থাকতে হবে। বেকার বসে না থেকে সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে।

যেই কথা সেই কাজ বান্ধবীকে দিয়ে রংতুলি কিনে নিলাম ধীরে ধীরে কাজ করতে শুরু করি। উদ্যোক্তা গ্রুপ গুলোতে পোস্ট পড়তাম দেখতাম কত মানুষ কত যুদ্ধ করে নিজেকে স্বাবলম্বী করছে।

ধীরে ধীরে স্বপ্নটা বড় হতে থাকে, কাজের পরিধিও বাড়ে। শুরু করলাম শাড়ী, পাঞ্জাবী, থ্রী-পিচ সহ বিভিন্ন কাপড়ে রংতুলির ছোয়ায় হ্যান্ড পেইন্টিং৷ চেষ্টা করেছি রুচিসম্মত পছন্দ টা তুলে ধরার। আমিও ফেসবুকে একটি পেজ ও গ্রুপ খুলে পোস্ট দেয়া শুরু করি। আমার পেজ ও গ্রুপ “স্বপ্নচারিতা “।

ইয়াছমিন স্বপ্না। ছবি- বার্তা বাজার

 

আমি পরিশ্রম করতে ভালোবাসি আর ধৈর্য আল্লাহ আমায় যথেষ্ট দিয়েছেন। আমার পরিশ্রম আর সকলের দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ অনেকটা পথ এগিয়েছি।আমি যদি খুব ভালোভাবে সময় দিতে পারতাম তাহলে হয়তো কাজের পরিধি অনেক গুন বেড়ে যেত। তবে যতটুকু করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ শুকরিয়া মহান আল্লাহ তাআ’লার কাছে।কঠোর পরিশ্রমীরা কখনো হার মানেনা তারা এগিয়ে যায় সামনে দিকে।পিছনে ফেরার দরকার হয়না। সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে চাই,সেই সাথে আমার সেল আপডেট টাও জানিয়ে রাখি ১০১,৮৬০ টাকা মাত্র।অনেকের কাছে এটা সামান্য হতে পারে তবে আমার কাছে অনেক অনেক

ঐশী ইসলাম, গণিত বিভাগ

নিজের শখটাকে পেশা হিসেবে নিতে কে না চায়?ছোট পরিসরে হলেও আমি শখটাকে কাজে পরিণত করতে পেরেছি।লকডাউনে বাসায় বসে বসে আসলে অনেকটা বিরক্ত হয়ে গেছিলাম যেমনটা সবাই হয়েছিলো।সময়টাকে কাজে লাগানোর জন্য মূলত এই উদ্যোগটা নেয়া।যেহেতু ছোটবেলা থেকেই আর্ট পারি আর আর্টের প্রতি আছে বিশেষ দুর্বলতা। তাই এই শখটাকে কাজে লাগিয়ে কিছু করতে শুরু করলাম। আর ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে দেখতাম হ্যান্ড পেইন্টেড বিভিন্ন পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি।

 

ঐশী ইসলাম। ছবি- বার্তা বাজার

প্রথমে টুকটাক টিশার্টে হ্যান্ড পেইন্ট করতাম।এরপর সবার চাহিদা অনুসারে কাজ করে গেছি।এখন মূলত হ্যান্ড পেইন্টেড কুর্তি,শাড়ি,পাঞ্জাবি আর টিশার্ট নিয়েই কাজ করছি।আমার পেজের নাম ❝ঐশ্বীকা❞।নিজের আয়ের টাকায় হাত খরচ আর বাবা-মায়ের জন্য উপহার কেনা শিক্ষাজীবনে অনেক বড় অনুভূতি। এই পথচলায় সকলের দোয়া ও সহায়তা চাই।

মনিরা মনি, জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিস বিভাগ

যখন করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্ব থমকে যায়, বাংলাদেশেও লকডাউন শুরু হয় তখন বাসায় বসে আসলে একঘেয়েমি সময় কাটছিলো। তখন আমি ভাবি যে, এই অফুরন্ত অবসরকে আমি কিভাবে কাজে লাগাতে পারি।আমার এক বন্ধুর কাছে অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারি এবং এটি করতে আগ্রহী হই। তখন থেকেই আমার অনলাইনে ব্যবসার শুরু।

মনিরা মনি। ছবি- বার্তা বাজার

আলহামদুলিল্লাহ সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় আজকে আমি ❝Moni’s World❞ নামক পেজটির মাধ্যমে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে এই ব্যবসার আরও প্রসার ঘটাতে পারব বলে মনে করছি।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর