একটি বালিশ ও একটি মাত্র তোশক। দাম আর কতই বা হবে? ভালো মানের হলেও হাজার দশেক টাকা। কিন্তু সরকারি সহায়তা হাতানোর সুযোগ পেয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগস্থ এক ব্যক্তি এই দু’টি জিনিসের দামই নির্ধারণ করলেন ১২ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ভোলাখালী গ্রামের মৃত হানিফার ছেলে বাদাঘাট বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর মিয়া এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তার অভিনব প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারের একটি মার্কেটে বুধবার দিনগত রাতে অগ্নিকাণ্ডে ৪ ব্যবসায়ীর প্রায় ১১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই চার ব্যবসায়ীর দোকানের পাশে ছোট একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাত কাটাতেন কথিত ব্যবসায়ী নূর মিয়া। তার কক্ষে ছিল না কোনও মালামাল। আসবাব বলতে থাকা একটি বালিশ, তার কভার, চাদর ও ছোট আকৃতির একটি তোশক ছিল সেখানে। সেগুলো পুড়ে যায় আগুনে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ইউএনও। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দেখতে যাওয়ায় নূর মিয়া তার বালিশ ও তোশক দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে দাবি করে সরকারি সহায়তা কামনা করেন।
তখন সেখানে থাকা ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন, রয়েল মিয়াসহ অন্যরা প্রতিবাদ করে জানান, নুর মিয়ার কোনো মালামালই পুড়েনি। তার শয়ন কক্ষে একটি বালিশ আর তোশক ছাড়া কিছুই ছিল না। তিনি প্রতারণা করছেন সরকারি সহায়তা হাতিয়ে নিতে।
অবস্থা বেগতিক দেখে সেখান থেকে কৌশলে দ্রুত সটকে পড়েন চতুর ব্যবসায়ী নূর মিয়া।
এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত ব্যবসায়ী বিল্লাল মিয়া, জাহেদ হোসেনরা বলেন, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বালিশ কাণ্ডকেও হার মানিয়েছেন বালিশ তোশকের ক্ষতিপূরণ ১২ লাখ টাকার দাবিদার নুর মিয়া। খোদ ইউএনও মো. রায়হান কবির নিজেও এমন কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বার্তা বাজার/এসজে