পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সন্ধানে ড্রোন ব্যবহার করছে যৌথ বাহিনী
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জেএসএস সন্ত্রাসীদের সাথে যৌথবাহিনীর গুলি বিনিময়ের পর দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবারও (২ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে যৌথ বাহিনীর তল্লাশী অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিজিবির পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজিবির উপ পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূ্ঞা পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বান্দরবান রিজিয়ন পরিচালনা প্রসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, নারী ও শিশু পাচার রোধ ও অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এরই ধারাবাহিতকতায় সম্প্রতি দোছড়ি এবং বাইশারী ইউনিয়ন এলাকায় জেএসএস সশস্ত্র দলের সন্ত্রাসীদের আনাগোনা ও দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদেরকে গ্রেপ্তার/নির্মূল করার লক্ষ্যে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের নির্দেশনা মোতাবেক নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) কর্তৃক গত ১ সেপ্টেম্বর হতে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে।
উক্ত অপারেশনের সার্বিক সাফল্য নিম্নে প্রদত্ত হলো-
ক। ১ সেপ্টেম্বর নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর অধিনায়ক বিএ-৪৯৪৯ লে. কর্নেল শাহ আবদুল আজীজ আহমেদ, এসপিপি এর নেতৃত্বে ২ জন অফিসারসহ সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র সমন্বয়ে সর্বমোট ৬ টি টহল দল বিশেষ অপারেশেনের উদ্দেশ্যে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি এবং বাইশারী ইউনিয়ন এলাকার মধ্যবর্তী স্থান হাতিরঝিড়ি/চাকপাড়া এলাকায় গমন করেন।
উক্ত এলাকায় গমনের পর সশস্ত্র সন্ত্রাসী/জেএসএস সদস্যরা বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তৎক্ষণাৎ অপারেশন কমান্ডারের নির্দেশনা মোতাবেক বিজিবি টহল দল কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে চতুর্দিক থেকে তাদেরকে ঘেরাও করে রাখে। পরবর্তীতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী/জেএসএস সদস্যরা পালাতে না পেরে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ী গুলিবর্ষণ করে। জবাবে বিজিবি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে।
গুলিবর্ষণ এর এক পর্যায়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে অপারেশন টাস্ক গ্রুপ-৫ এর কমান্ডার ক্যাপ্টেন জাহিদ হাসান এবং সৈনিক মোঃ আল আমিন হোসেন এর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। অতঃপর বিজিবি টহল দলের সমন্বিত আক্রমণে সন্ত্রাসী দল পাহাড়ী ঘন জঙ্গলের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকে। বিজিবি টহল দল তাদেরকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে উক্ত এলাকাটি রাতভর ঘেরাও করে পাহারা দেয়।
খ। উক্ত অপারেশনের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর চাকপাড়া এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী/জেএসএস এর আস্তানা এবং তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার জন্য উন্নত প্রযুক্তি (ড্রোন) ব্যবহার করে ব্যাপক তল্লাশী (সার্চ) করে কোন আলামত পরিলক্ষিত হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপারেশন দল বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বর্ণিত এলাকায় সরেজমিনে তল্লাশী (সার্চ) করা হয়।
সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র, অবৈধ কাঠ পাচার ও পরিবহন, মাদকদ্রব্য পাচার, অন্যান্য যে কোন ধরনের অবৈধ পণ্য সামগ্রী পাচার, চাঁদাবাজি এবং এই এলাকায় যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে বিজিবি’র এ ধরনের কার্যক্রম ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/এসজে