ঘাটাইলে কথিত সাংবাদিকদের অপকর্মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
অভিযোগ পেলেই টিমের সদস্যরা সাংবাদিক পরিচয়ে হাজির হয় প্রতিপক্ষের দুয়ারে। একেবারে যেন হুলস্থল কাজ কারবার। তারা নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। এদের কর্মকান্ডে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদের অপকর্মের শিকার হয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি গ্রামের মিজানুর রহমান মিঠু ও তার পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ধোপাজানি নামক এলাকায় মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগি পরিবার ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।
মানবন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন ও ইউপি মেম্বার মনির হোসেন।
ভূক্তভোগি মিজানুর রহমান মিঠু বলেন, সম্প্রতি আমিনা ওরফে সোহাগী নামের এক নারী আমার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলাটি ডিবি পুলিশ কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাদের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে ঢুকে আমার বৃদ্ধ মাকে নাজেহাল করে।
ধোপাজানি গ্রামের গোলজার হোসেন জানান, সাংবাদিক হলো সমাজের দর্পন। আর সাজানো ও মিথ্যা মামলার উপর ভিত্তি করে কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয়ে যেভাবে আতঙ্কিত করে একজন বৃদ্ধাকে হয়রানি করেছে এটা খুবই দুঃখজনক। নামধারি এ সাংবাদিকদের কারণে সকল সাংবাদিককে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এর তীব্রনিন্দা জানাই ও এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মনির হোসেন বলেন, মিজানুর রহমান মিঠু ও সোহাগীর ছেলে সোহেল একসাথে গার্মেন্টসের ব্যবসা করে। এ নিয়ে রহস্যজনকভাবে মিঠুর ব্যবসায়িক পার্টনার সোহেলের মা আমেনা ওরফে সোহাগী বাদি হয়ে আদালতে মামলা করে। মামলার আগে মিমাংসার জন্য তাদের ডেকেছিলাম। মিঠু উপস্থিত হলেও সোহেল আসেনি।
জানতে চাইলে মানববন্ধনে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন বলেন, মামলার বিষয়টি সম্পর্কে আমি পূর্ব থেকেই অবগত। এ নিয়ে আমি বাদি বিবাদী উভয়কেই সমঝোতার জন্য ডাকলে বাদিপক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি। অপর প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু লোকজন মানুষকে হয়রানি করার একাধিক অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে। এদের অনৈতিক কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রেস ক্লাব ও স্থানিয় এমপিকে অবহিত করার মনস্থির করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উত্তম আর্য্য/বার্তা বাজার/এসজে