ভোলায় শিশু হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন

ভোলার চরফ্যাসনে ১০ বছরের শিশু কেফায়েত উল্যাহ রাইহান হত্যা মামলায় চার আসামীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন বৎসরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত।

দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ চরফ্যাসন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. নুরুল ইসলাম দন্ডবিধির ৩০২/২০১/৫০৬/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আসামীদের উপস্থিতিতে এ দন্ডাদেশ দেন। দন্ডিতরা হলেন, শশীভূষণ ২নম্বর ওয়ার্ডের জামাল উদ্দিন চৌকিদারের ছেলে মো. মোস্তফা ও মো. ইকবাল, মৃত আজাহার আলী চৌকিদারের ছেলে জামাল উদ্দিন চৌকিদার এবং শশীভূষণ ১নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নজির আলী গাজীর ছেলে জয়নাল আবেদীন গাজী।

অতিরিক্ত দায়রা জজ চরফ্যাসন আদালত সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, আসামীদের বিভিন্ন মেয়াদে পূর্বের হাজতবাস কাল বাদ দিয়ে ১৭ আগষ্ট ২০২১ থেকে প্রত্যেক আসামীর অবশিষ্ট সাজা গননা করা হবে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, মামলার বাদী মাওলানা আবদুল্লাহ আল নোমানের শশুরবাড়ির ৩২ শতাংশ জমি আসামিরা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে ২০১৩ সনের ২১ মার্চ স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক হয়। ওই সময় আসামীরা শালিসের উপস্থিতিতে বাদীকে এবং তার স্বজনদের মারধর করে গুরুতর আহত করেন। মারধরের ঘটনায় ওইদিনই শশীভূষণ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ২০১৩ সনের ২০মে বাদীর ১০বছরের শিশু পুত্র কেফায়েত উল্যাহ রাইহানকে হত্যা করে।

ওই হত্যার ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করতে আসামীরা কেফায়েত উল্ল্যাহ রাইহানের মরদেহ তার শশুর আবদুল মতিনের ঘরের দক্ষিণ পাশের ধান খোলার পশ্চিমে বাঁশের আড়ার সঙ্গে শুকাতে দেয়া লুঙ্গির সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। বাদীর শাশুড়ি ফজিলাতুন নেছা ঝুলন্ত মরদেহ দেখেন। খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা মর্গে পাঠান।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে শশীভূষণ থানায় মামলা করতে গেলে প্রভাবশালী আসামীদের চাপে থানায় মামলা করতে না পেরে পরবর্তীতে ২০১৩ সনের ২৪জুন তিনি বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ৯ বছর পর বিজ্ঞ আদালত শিশু পুত্র হত্যার প্রকৃত আসামীদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়ায় রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মাওলানা আবদুল্লাহ আল নোমান।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি মো. মোজাম্মেল হক জানান, বিজ্ঞ বিচারক যে রায় দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তষ্ট। এ রায়ে বাদী ন্যায় বিচার পেয়েছেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবি মো. ছালেহ উদ্দিন আসামীদের বরাত দিয়ে জানান, রায়ে তারা ন্যায় বিচার পায়নি। রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

আরিফ হোসেন/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর