ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাজমুল হক সুমন চৌধুরী নামে এক ইউনিয়ন আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জেলার একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন ওই আ’লীগ নেতা। বিজ্ঞাপন প্রকাশিত ওই পত্রিকাটি নিজ ইউনিয়নে বিতরণ করাতেও দেখা যায় ওই নেতাকে। তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ার পরও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দেওয়ায়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে মিশ্র প্রক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ আগষ্ট) এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আশুগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এ কে এম ছাদির।
অভিযোগকারি শরীফপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এ কে এম ছাদির জানান, শরীফপুর ইউনিয়নে বাচ্চু মিয়া নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই।তবে তার ছেলে নাজমুল হক সুমন চৌধুরী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় গেজেট কৃত উপজেলা সমাজসেবা থেকে শরীফপুর ইউনিয়নের ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়ও নাম নেই। বিষয়টি ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করেছি।
এই ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) অরবিন্দ বিশ্বাস বাপ্পী জানান, ‘গতকাল (৩১ আগস্ট) আমি সারাদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলাম। অভিযোগের কপিটি অফিসে জমা হতে পারে, কিন্তু আমার হাতে এখনো পায়নি। অভিযোগটি হাতে পেলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে। উনি ১৫দিনের ভেতরে বিষয়টির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন’।
তবে অভিযুক্ত নাজমুল হক সুমন চৌধুরী জানান, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি অবগত নই। পত্রিকার বিজ্ঞাপনে ভুলবশত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লেখাটি গিয়েছিল। গতকাল ৩১ আগস্ট পত্রিকায় সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।
রাসেল আহমেদ/বার্তা বাজার/এমকে