মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামীর কারাগারে মৃত্যু
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আনিসুল ইসলাম রাজা (৪২) কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
টাঙ্গাইলের জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, আনিসুল ইসলাম রাজা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিগত ২০১৪ সালের আগস্ট মাস থেকে টাঙ্গাইল কারাগারে ছিল। গত মাসের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আসামী আনিসুল ইসলাম রাজার পেট ফুলে যায়।
প্রথমে কারাগারের চিকিৎসক এবং পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেয়। পরে গত ১৮ আগস্ট তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ওই কারাগারের হেফাজতে তাকে ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।
আসামী আনিসুল ইসলাম রাজা টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম মোতালেবের ছেলে। আনিসুল ইসলাম রাজাকে বিগত ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে। দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তিতেই এই হত্যার সাথে তৎকালিন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এবং তার ভাইদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বের হয়ে আসে।
জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার শহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর নিহতের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হাসান সিকদার/বার্তা বাজার/এসবি