লামায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বীজ ছিটানোর কার্যক্রম উদ্বোধন!
দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক বনাঞ্চল পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী রিজার্ভ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ হতে সীডবল নিক্ষেপের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বীজ ছিটানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট’২১) বেলা ১১টায় বন বিভাগের উদ্যোগে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জিয়াউল হক।
এসময় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য জীব-বৈচিত্র দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্রের অনেক প্রজাতি ইতোমধ্যে আমাদের পরিবেশ থেকে হারিয়ে গেছে। বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী বিরল তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে বৃক্ষ ও বনাঞ্চল। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস, জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি দেশের উন্নয়নের মূলধারা অব্যাহত রাখতে হলে ব্যাপকহারে বনায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরী।
একই সাথে জনসাধারণকে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন করা এবং বনাঞ্চল সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করা একান্ত অপরিহার্য। শুধুমাত্র সরকারি পর্যায়ে নয় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও বেশি বেশি করে গাছ লাগানাের জন্য তিনি সবাইকে আহবান জানান।
বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিয়া জানিয়েছেন, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী রিজার্ভের যেসব এলাকায় গাছের সংখ্যা কম সেসব এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বীজ ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আগে এই উদ্যোগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
বর্তমানে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবান ও লামা বন বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে এ কাজটি করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বীজের মধ্যে চাপালিশ, গর্জন, চম্পাসহ দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ থাকবে। এ প্রজাতির অনেক বৃক্ষ এখন রিজার্ভ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মূলত রিজার্ভ রক্ষার জন্য বন বিভাগ এই উদ্যোগ নিয়েছে। এটি সফল হলে পরবর্তী সময়ে আরো বড় পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হবে।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উপর থেকে বীজ ছিটানো হলে এতে বীজের অঙ্কুরোদগম কেমন হবে তা একটি পরীক্ষার বিষয়। অধিকাংশ বীজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে কিছু পরিমাণ বীজও যদি অঙ্কুরোদগম হয় তাও বনাঞ্চলের প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য সহায়ক হবে। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রিটিশ আমলে সর্বপ্রথম রিজার্ভ ফরেস্টে বীজ ছিটানোর কথা শোনা গিয়েছে।
এসময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মেদ আব্দুল আউয়াল সরকার, বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা, লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস.এম. কায়চার সহ সেনাবাহিনী, বনবিভাগ ও সরকারী বিভিন্ন উর্ধতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।
এম. মিজানুর রহমান/ বার্তা বাজার/টি