শ্রদ্ধার বেদিতে পশ্চাদস্পর্শ; জুতা পায়ে আলোকচিত্র ধারন

পটুয়াখালীর বাউফলে শহিদ মিনারে জুতা পায়ে ফটোসেশন ও সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন দাবিকৃত ফেসবুক সমাজ সেবক দল।
ওই দলের প্রধান মো. ফিরোজ আলম ওরফে ব্যবসায়ী ফিরোজ তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওই ছবি পোস্টা করার পরে এ সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বাউফল পৌর শহরে শেখ রাসেল মিনি ফুটবল মাঠের পশ্চিম পাশে শহিদ মিনারে জুতা পায়ে দিয়ে ফটোসেশন করেন ফিরোজ। ওই ছবিতে তিন নারীসহ ১০জন যুবককে জুতা পায়ে দেখা যায়। তারা সবাই দাবীকৃত সমাজসেবক।

বিকাল ৫টার দিকে শহিদ মিনারে জুতা পায়ে তোলা ওই ছবি ফিরোজ তাঁর ফেসবুক আইডিতে (ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম) পোস্ট করেন। ভাষা শহিদের অবমাননা করে জুতা পায়ে শহিদ মিনারে তোলা ছবি নিয়ে শুরু হয়ে ব্যাপক সমালোচনা।

অভিযোগ রয়েছে ফিরোজ এক সময় বিএনপি করতো। সুকৌশলে ভোল্ট পাল্টিয়ে আওয়ামীলীগ বনে চলে যান ফিরোজ। নিজেকে দাবি করেন আওয়ামীলীগ নেতা। তারুণ্যের বাউফল নামে ফেসবুক গ্রæপ খুলে নিজে হন উপদেষ্টা ও এডমিন। নিজেকে দাবি করেন সমাজসেবক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিরোজের ঘনিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন,‘চতুর ফিরোজ নিজেকে পরিচিত করতে ফেসবুকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন। করোনা কালে নাম মাত্র মাস্ক বিতরণের করে ফেসবুকের পাতায় নিজেকে মস্তবড় সমাজ সেবক হিসাবে উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন সময় লোক দেখানো জন্য সাহায্য সহযোগিতাও করেন ফিরোজ। জনসেবার নামে এসব ফিরোজের প্রতারণা বলে দাবি করেন ওই ঘনিষ্ট জন।

শহিদ মিনারে জুতা পায়ে ছবি প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মাহমুদ হাসান রুবেল বলেন,‘ সালাম বরকত রফিক জব্বারসহ সকল শহিদের আত্মা আজ পদদলিত। এভাবে ভাষা শহিদদের অবমাননার উদ্দেশ্য আমার জানা নেই। জাতির কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী।

জুতা পায়ে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় কঠোর সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন ওই ফিরোজ আলম।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ফিরোজ আলম বলেন,‘আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিন্তু সনদ নেই। আমরা জুতা পায়ে দিয়ে শহিদ মিনারের সিঁড়িতে বসছি। শহিদ মিনারে বসিনি। তারপরেও যদি আমার ভুল হয়ে থাকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

এম.এ হান্নান/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর