২ লাখ ৭ হাজার গ্রাহকের সাথে ৩১১ কোটি টাকার প্রতারণা!

দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। তাদের প্রায় দুই লাখ সাত হাজার ৭৪১ জন গ্রাহকের কাছে ৩১১ কোটি টাকার দেনা আছে। এই দেনাকে গ্রাহকেরা বলছেন একরকম ‘প্রতারণা’। তবে ছয় মাসে এই দেনা শোধ করা হবে জানায় ইভ্যালি।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক হিসেবে গ্রাহকদের কাছে দেনার হিসেবও জমা দেয় ইভ্যালি। সেই হিসেবেই ইভ্যালি জানায়, ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ জন গ্রাহকের অর্ডার করা পণ্য তাদেরকে এখনও ডেলিভারি করা হয়নি। গ্রাহকদের পরিশোধিত মূল্য প্রায় ৩১০ কোটি টাকা। তবে অর্ডার করা পণ্য ব্যবসা দিয়ে মুনাফা অর্জন করে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করা সম্ভব বলে দাবি করেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল।

সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এই দেনা হয়দেশের আলোচিত প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। এছাড়াও বিভিন্ন সেলার ও মার্চেন্টদের হিসেব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট দেনা ৫৪৪ কোটি টাকা। নিজেদের পেইড আপ ক্যাপিটাল এক কোটি টাকা বাদ দিলে সর্বশেষ দেনা প্রায় ৫৪৩ কোটি টাকা।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক উল্লেখ করেন গ্রাহকদের কাছে থাকা দেনার বিষয়টিকে একরকম প্রতারণা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে সেখানে প্রায় সাত হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা যায়। তবে এর মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি অভিযোগ নিয়েও কাজ চলমান বলেও জানা যায়।

অপরদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নিজেদের চিঠিতে ইভ্যালি জানিয়েছে গ্রাহকদের কাছে হওয়া এই দেনা ব্যবসা করে ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। ৭০ লাখ অর্ডার ইতোমধ্যে সফলভাবে গ্রাহকদের কাছে ডেলিভারি হয়েছে বলেও দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া সেই চিঠিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত ৭০ লাখের বেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সফলতার সঙ্গে সরবরাহ হয়েছে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় আছে। কিছুসংখ্যক গ্রাহক পণ্য পাননি, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে পর্যাপ্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ পেলে ছয় মাসের মধ্যে ওই সব ক্রয়াদেশসহ সব ক্রয়াদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হব। এ পরিবেশ তৈরিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অগ্রণী ভূমিকার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সম্প্রতি এক লাইভে মোহাম্মদ রাসেল ছয় মাসের মধ্যে সকল গ্রাহকদের অর্ডার ডেলিভারি করার প্রতিশ্রুতি দেন। মোহাম্মদ রাসেল বলেন, একজন গ্রাহকের একটি অর্ডার বা রিফান্ড বাকি থাকবে না। সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে এগুলো ডেলিভারি করা হবে।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর