স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গিয়ে চুরি মামলা খেলেন স্বামী
স্থানীয় কথিত প্রভাবশালীর মেয়ের সাথে কলেজ ছাত্রের লুকিয়ে প্রেম। একপর্যায়ে পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে বিয়ে করেন তাঁরা। এরপর মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পেয়ে গভীর রাতে স্ত্রীর সাথে শ্বশুড় বাড়ি দেখা করতে যায় স্বামী।
দেখা করার সময় শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের কাছে ধরা পড়েন জামায়। এসময় শ্বশুড় লোকজন তাঁকে হাতুর, রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধরক মারপিট করে। এতে জামায় মাথায়, পায়ের মাংসপেশি সহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।
এমন ঘটনা রোববার রাত একটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে ঘটেছে।
আহত কলেজ ছাত্র জাকারিয়া জগন্নাথপুর ইউনিয়নের জোতপাড়া গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অনার্স রষায়ন বিভাগের ছাত্র। প্রেমিকা একই ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে নাসনিন আক্তার দিশা।
পরে আহত জামায়কে পুলিশের কাছে তুলে দেন শ্বশুড় বাড়ির লোকজন। পুলিশ আহত জামায়কে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং হেফাজতে রাখেন।
এ বিষয়ে সোমবার সকালে দিশার চাচা সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় জামায়ের বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টার মামলা করেন। মামলা নম্বর ৩০।
এ বিষয়ে আহত কলেজ ছাত্র জাকারিয়া বলেন, লুকিয়ে আমার সাথে দিশার প্রেম ছিল। প্রেমের সম্পর্কের জেরে আমরা গোপনে বিয়ে করেছি চলতি মাসের ২৪ তারিখে। এরই সুত্রে ধরে দিশা আমাকে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করে এবং রোববার রাত ১ টার দিকে দিশাদের বাড়িতে যায়। এসময় বাড়ির লোকজন আমাকে হাতুর, রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং চুরির স্বীকারক্তি ফোনে রেকোর্ড করে।
তিনি আরো বলেন, রাতেই পুলিশের হাতে তুলে দেয় আসাকে। পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। আমার কপালে সাতটা সিলাই দেওয়া হয়েছে। হাটুতে হাতুরিপিটার আঘাত রয়েছে।
এ বিষয়ে জাকারিয়ার চাচা হেলাল উদ্দিন, বিয়ে করা বউয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল ভাতিজা। কিন্তু ওর শ্বশুড় বাড়ির লোকজন ব্যাপক মারপিট করে মিথ্যা মামলা করেছে। তিনি আরো বলেন, জাকারিয়ার শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ওর চিকিৎসা দরকার।
জাকারিয়ার মা জোসনা খাতুন বলেন, ছেলেকে হত্যা করতে লেগেছিল ওর শ্বশুড় বাড়ির লোকজন। থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। উল্টো ছেলেকে চোর বানিয়েছে। আমার ছেলে রসায়নে পড়ে, চোর নয়।
এবিষয়ে মামলার বাদী সিদ্দিকুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, এটা তো পরিবারের অভ্যান্তরীন বিষয়, কাল (মঙ্গলবার) সরাসরি বলব।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, হোগলার খলিলের বাড়িতে গভীর রাতে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল এক যুবক। এসময় স্থানীয়রা যুবককে মারপিট করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টার মামলা করেন খলিলের ভাই। তিনি আরো বলেন, আহত যুবকের পক্ষ্যে এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোশারফ/বার্তা বাজার/টি