লিফট নষ্ট: হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়ে প্রসূতির মৃত্যু

এবার শেরপুর জেলা হাসপাতালে লিফট বিকল থাকায় পাঁচ তলার গাইনী ওয়ার্ড থেকে করোনা টেস্টের জন্য নীচতলায় নেমে অসুস্থ হয়ে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, সাত মাসের অন্তসত্বা ওই নারীকে গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তির পর বিভিন্ন টেস্টের জন্য কয়েকবার সিঁড়ি বেয়ে উঠানামা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্তের দাবী এলাকার জনপ্রতিনিধির। লিফটের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের আশ্বাস গণপূর্তে, শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে রোজিনার বলছেন সিভিল সার্জন। রোজিনা শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী এলাকার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সালামের স্ত্রী।

মৃতের স্বজনরা জানায়, গেলো শনিবার সকালে রক্তক্ষরণ জনিত সমস্যা নিয়ে শেরপুর জেলা হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় সাত মাসের অন্তঃসত্বা রোজিনাকে। হাসপাতালের দুটো লিফট নষ্ট থাকায় ভর্তির পর তাকে হাঁটিয়ে সিঁড়ি দিয়ে পাঁচ তলা গাইনী ওয়ার্ডে নেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত নার্স রোজিনার আলট্রাসনোগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষার কথা বলেন। এজন্য আবারো তাকে পাঁচ তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে নিতে হয়। টেস্ট করা শেষে পুনরায় পাঁচ তলায় সিঁড়ি বেয়ে উঠার পর বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে রোজিনা।

রোজিনার স্বামী সালাম বলেন, শনিবার সিঁড়ি বেয়ে পাঁচ তলায় উঠার পর আমার স্ত্রী বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। রবিবার সকালে নার্স আমাকে দুটো ইনজেকশন কিনে আনতে বলে। আমি নিচে থেকে ইনজেকশন কিনে নার্সকে দিলে তারা আমার স্ত্রীর করোনা রিপোর্ট ছাড়া কোন সেবা দেয়া হবে না বলে জানায়। আমার স্ত্রীকে নীচ তলায় করোনা পরীক্ষা করতে যেতে বলার সাথে সাথেই আমার স্ত্রী বলে উঠে, “পাঁচ তলা সিঁড়ি ভেঙে নিচে গেলে আমি আর বাঁচতাম না।”

পরে আমি নিচে গিয়ে আমার স্ত্রীর করোনা পরীক্ষা উপরে গিয়ে করানোর জন্য একজনকে ১২০টাকা দিই। এরপরও তারা যায় নাই। আমি সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে করোনা পরীক্ষার জন্য স্ত্রীকে নিচে নামাই। করোনার স্যাম্পল দেয়ার পরেই আমার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হয়; নিচ তলায় অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা করেও নিচ তলায় অক্সিজেন দিতে পারি নাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার স্ত্রী মারা যায়।

এ ঘটনায় কারো কোন গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন নন্নী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান রিটন।

এদিকে রোজিনার করোনা পরীক্ষা ফল পজিটিভ এলেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাকে শুধু পজিটিভ দেখানো হয়েছে। কিন্তু মৃতের তালিকায় দেখানো হয়নি। সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনোয়ারুর রউফ বলেন, লিফট নষ্ট থাকায় হার্টের রোগী ও শ্বাস কষ্টের রোগীদের উঠানামা করতে কষ্ট হয়েছে। লিফট নষ্ট থাকায় সাধারণ রোগী, নার্স ও চিকিৎসকদেরও ভোগান্তি হয়েছে।

একটি লিফট আপাতত সচল করা গেছে। প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ওই নারীর শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে। করোনা পজিটিভ এসেছে তার নমুনা। আজকের মৃতের তালিকায় তাকে উল্লেখ করা হবে বলেও তিনি জানান।

লিফট মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিলের প্রতিনিধি কামরুজ্জামান বলেন, জেলা হাসপাতালের একটি লিফট সচল করা হয়েছে। আরেকটি লিফটের কিছু অংশ মেরামত করতে সময় লাগবে। তিনি বলেন, লিফট পরিচালনার জন্য আলাদা লোকবল নিয়োগ না করা হলে আবারো লিফট নষ্ট হতে পারে।

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, আমরা লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। চলতি অর্থবছরেই এ সমস্যা সমাধান হবে আশা করছি।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর