বান্দরবান লামা উপজেলার আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের এক এসআইর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এসআইয়ের নাম আসাদুল্লাহ খান। উপজেলার আজিজনগর ইউপির মো. আব্দুল হামিদ কল্লোল নামের এক ভুক্তভোগী জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির এ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ২৫ আগস্ট অভিযোগকারী সশরীরে বান্দরবান এসপি অফিসে উপস্থিত হয়ে ওই অভিযোগটি করেন। অভিযোগকারী মো. আব্দুল হামিদ কল্লোল লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চিউনিপাড়া এলাকার আব্দুস ছাত্তার গাজীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন বিভিন্ন ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া মো. আব্দুল হামিদ কল্লোল ছোট একটি অ্যাগ্রোফার্ম করার জন্য বসতবাড়িসংলগ্ন একটি ছোট গর্ত ভরাট করেন।
এসময় আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি শামীম শেখ ছুটিতে থাকায় এসআই আসাদুল্লাহ খান গত ১৮’আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযোগকারীর বৃদ্ধ বাবাকে ক্যাম্পে তলব করেন এবং অ্যাগ্রোফার্ম করার জন্য জমি প্রস্তুত করায় তার বাবার কাছে থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তা না হলে পাহাড় কাটার মামলা দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান।
অভিযোগকারীর বাবা ভয় পেয়ে তাৎক্ষণিক পকেটে থাকা দুই হাজার টাকা এসআই আসাদুল্লাহকে দেন এবং বাকি টাকা পরের দিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে অভিযোগকারী মো. আব্দুল হামিদ বাবার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন এবং আর কোনো টাকা না দেওয়ার জন্য বাবাকে বলে দেন।
একদিকে প্রতিশ্রুতি মত বাকি টাকা না পেয়ে ২১আগস্ট সন্ধ্যায় এসআই আসাদুল্লাহ খান তার সঙ্গীয় একজন ফোসর্কে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে অভিযোগকারী ও তার বাবাকে খোঁজাখুঁজি করেন। তাদের না পেয়ে একপর্যায়ে পরিবারের নারীদের বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি আট হাজার টাকা নিয়ে ক্যাম্পে যোগাযোগ না করলে অভিযোগকারী এবং তার বাবাকে ইয়াবা মামলায় চালান করে দেওয়া হবে।
অভিযুক্ত এসআই আসাদুল্লাহ খান চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই তদন্ত করা হবে। যদি দোষী হয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এম. মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/টি