“যত দিন এ দেশে গৃহহীন মানুষ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবেনা”
যত দিন এ দেশে গৃহহীন মানুষ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবেনা জানালেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ। সোমবার (৩০ আগষ্ট) দুপুরে সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে ঢাকা জেলা যুবলীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জুম মিটিং এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, যত দিন এ দেশে গৃহহীন মানুষ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবেনা। গত বছর প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের পাশে আমরা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছতে পেরেছিলাম। এবছরও এর চেয়ে কম হবেনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা এদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। জিয়ার ভুয়া কবর, খালেদা জিয়ার মিথ্যা জন্মদিন এসব বিএনপির মিথ্যাচারের প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসময় শারীরিক ভাবে উপস্থিত না হতে পারার জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন শেখ ফজলে শামস পরশ।
আলোচনা সভার প্রধান বক্তা বাংলাদেশ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, বিএনপি জামায়াত দেশের মানুষকে ভালোবেসেনি। আমার মা-বোনকে পাকিস্তানিদের বাংকারে তুলে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক সেজে মিথ্যাচার করেছেন।
জিয়াউর রহমান যদি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধ করে থাকতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কেন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন? বিএনপি জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের সংগঠন। তার প্রমাণ তারা নিজেরাই রেখেছেন। সাভারের মাটিতে বিএনপি-জামায়েতের কবর রচনা করতে হবে। বিএনপি-জামায়াত আরেকটি ১৫ আগস্টের স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নকে ধুলিস্মাৎ করবে যুবলীগ।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার এখন সময়ের দাবি। এ দাবিকে আমরা সমর্থন করি। হত্যার রাজনীতি করে বিএনপি। হত্যা করেই তারা ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করেনা। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বেনজীর আহমেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, সাভার পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গণি, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবির হোসেন সরকার, যুগ্ম আহবায়ক মঈনুল ভুঁইয়া, আশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাদবর প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন ধরনী।
এদিকে, সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে ঢাকা জেলা যুবলীগের আয়োজনে ১ হাজার অসহায় মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধীদের ত্রাণের ছবি তুলে ত্রাণ না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন।
৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, তেল ১ লিটার, ডাল ১ কেজি, পেঁয়াজ ২ কেজি ও লবন আধা কেজি সম্বলিত ত্রাণের প্যাকেজ বিতরণের জন্য আগেই দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে এক ধরনের কার্ড বিতরণ করা হয়। তবে কার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে আসলেও ত্রাণ পাননি প্রতিবন্ধীরা। ছবি তুলে ত্রাণ ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কার্ডধারী প্রতিবন্ধী।
এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী জহুরা বলেন, আমাদের ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে যুবলীগ নেতা মিজান কার্ড দিয়েছেন। পরে আজ সকাল থেকে ত্রাণের জন্য এসে বসেছিলাম। আমরা প্রতিবন্ধী হওয়ায় নেতারা আমাদের ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে সামনে নিয়ে বসান। আমাদের হাতে ত্রাণ দিয়েছিল। পরে সাংবাদিকরা ছবি তোলার পর আমাদের হাত থেকে ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে আবার রেখে দেয়। যারা ত্রাণের প্যাকেট হাত থেকে নিয়ে রেখে দিয়েছে তারাও নেতা, কিন্তু আমরা চিনি না।
পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতিবন্ধী জয়নাল বলেন, আমাদের আগেই কার্ড দেওয়া হয়েছে। কার্ড থাকলেও ত্রাণ দেয়নি ওরা। ত্রাণ যদি নাই দেবে তাহলে কার্ড দিয়ে আমাদের এখানে ডেকে নিল কেন। আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি।
এ রকম আরও কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ছবি তুলেই হাত থেকে ত্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিবন্ধী, আমাদের ত্রাণ না দিয়ে সক্ষম লোকদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত ছিলাম। শেষে আমাদের বলেছে আর ত্রাণ নেই।
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএস মিজান বলেন, আমরা উপহার বিতরণের পর বিতরণকৃত কার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলিনি। কার্ডধারীদের সঙ্গে অনেকেই এসেছেন, তারা উপহার নেওয়ার পর কার্ড তাদের সঙ্গে আসা লোকজনকে দিয়ে দেন।
তাছাড়া আমি নিজেই প্রতিবন্ধীদের সামনে নিয়ে উপহারের প্যাকেট বিতরণ করেছি। প্রায় ৪০টি চেয়ার ফাঁকা ছিল। উপহার নেওয়ার লোক ছিল না। তারপরও যদি কেউ না পেয়ে থাকে তাদের আমার অফিসে পাঠিয়ে দেন। আমি আরও বেশি করে দিয়ে দেব।
মোঃ আল মামুন খান/বার্তা বাজার/টি