তিস্তার বাঁধ ভেঙ্গে হুমকিতে ৪ হাজার পরিবার

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়িতে তিস্তা নদীর স্পার বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় হুমকীর মুখে পডড়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পসহ ৪ হাজার পরিবার।

সোমবার (৩০ আগস্ট) ভোরে বাঁধটির এক’শ মিটার ভেঙ্গে যায়। এর ফলে ভেন্ডাবাড়ি এলাকার আড়াই হাজার পরিবার হুমকীর মুখে পড়েছে।স্পার বাঁধে বাস করা শামসুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদী আমার সব খেয়ে ফেলেছে। বাঁধের উপর তিন বছর আগে থেকে কোন রকমে ঘর তৈরী করে দিন কাটাচ্ছি সেটাও আজ ভেঙ্গে গেলো এখন থাকবো কোথায়।

কুতুব আলী বলেন, আমার ৫জনের সংসার স্পার বাঁধে থাকতাম আমরা তিস্তা নদী খেয়ে ফেলেছে সব কিছু। গত কয়েক দফায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গন শুরু হলে সর্বশেষ স্পারটি ভেঙ্গে যাওয়ায় গতকাল সকালে বাড়ি ঘর সরে নিয়ে আসি। এখন আমরা যাবো কোথায়। তিস্তা নদীর নতুন চ্যানেল তৈরি হওয়ায় এখানে নতুন করে নদী তৈরি হলো। এই এলাকার শত শত পরিবার কোথায় যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বাবু বলেন, স্পার বাঁধটির মাঝ অংশ হুমকিতে ছিলো। সেখানে বালুর বস্তা ফেলে রক্ষা করা হয় কিন্তু শেষ অংশ গতকাল হুমকীর মুখে পড়ে। পাঁচ’শ বালুর বস্তা দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলেও ভোরে ধ্বসে পড়ে। বাঁধ থেকে আড়াই’শ মিটার দূরে আশ্রয় প্রকল্প। সেখানে ৩৯পরিবার বসবাস করে। এই এলাকায় আড়াই হাজার পরিবার রয়েছে তারা সবাই নদী ভাঙ্গা। আবারো আতংকে পড়ছেন তারা এখন যাবে কোথায়।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, তিস্তার এই এলাকার শতাধিক বাড়ি ঘর খেয়ে ফেলেছে গেল তিন দফার পানি বৃদ্ধিতে। হুমকীর মধ্যে রয়েছে ভেন্ডাবাড়ি ও ছাতুনামার চরের হাজার হাজার পরিবার। ভেন্ডাবাড়ি চরের দুই নম্বর স্পার বাঁধটি রক্ষায় কয়েক দিন থেকে কাজ করা হচ্ছিলো। স্পার বাঁধটি ভাঙ্গণ ধরায় ডানতীর বাঁধ জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নে মিলিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা জানান, স্পার বাঁধটির এক’শ মিটার ধ্বসে পড়েছে। বালুর বস্তা দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। ওই এলাকায় শত শত মানুষ বাস করে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।

তারিকুল ইসলাম সোহাগ/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর