যমুনায় বাড়ছে পানি, ভাঙ্গছে নদীর পাড়!

যমুনা নদীতে অব্যাহত গতিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলে ফেপে উঠেছে। ফিরে পেয়েছে যমুনা তার ভরা যৌবন তারই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনার নদীর পানি বিপদ সীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার তর্জন গর্জনে নদী ভাঙ্গন পাড়ে মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় গো খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ রিডার আব্দুল লতিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলার চৌহালী ও এনায়েতপুরের বেশ কয়েকটি স্থানে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। একদিনে ভাঙনে চৌহালী উপজেলার খাসপুকুরিয়া থেকে বাগুটিয়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার ব্যাপী এলাকার বিনানই, চরসলিমাবাদ ও এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ২০টি বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন কবলিত এলাকায় ঘরবাড়ি, গাছপালা সরিয়ে নিচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তরা। ভাঙনরোধে কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সব হারানো মানুষেরা। বন্যা কবলিত হয়ে পড়া জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ সব এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি উঠে পড়ায় বিপাকে রয়েছেন দুর্গতরা। বন্যা কবলিত এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে রোপা আমন ক্ষেত ও বীজতলা,আখ,পাট, তিল ও সবজিবাগানসহ বিভিন্ন ফসল।

ইতিমধ্যেই বন্যা কবলিত জেলার সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ১০০ টন চাউল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ###

এম এ মালেক/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর