শিক্ষকের নির্যাতনে ছাত্রের মৃত্যু
পটুয়াখালীর বাউফলে হাফিজি মাদ্রাসার শিক্ষকের নির্যাতনে মো. আরাফত হোসেন (৮) নামের এক ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। রোববার (২৯ আগস্ট) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলাটি দায়ের নিহত শিশুর বাবা মো. হাসান প্যাদা।
মামলায় উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর আল ইয়াসিন শিশুসনদ হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জিকির উল্লাহ (৪৫) ও তাঁর ছোট ভাই মো. কাওছারসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক মো. জামাল হোসেন তিনদিনের মধ্যে বাউফল থানার ওসিকে বিস্তারিত আদালতে জানানোর জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী ও নিহত আরাফতের বাবা মো. হাসান প্যাদা বলেন,‘পড়া মুখস্থ না হওয়ায় গত ২২আগস্ট দুপুরে তাঁর ছেলেকে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জিকির উল্লাহ। এতে তাঁর মাথায় ও চোখে জখম হয়। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ ও তাঁর ভাই কাওছার। অবস্থর বেগতিক দেখে পরের দিন (২৩ আগস্ট) সকালে আরাফত অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন এমন খবর পরিবারকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে হাসান প্যাদা মাদ্রাসায় এসে আরাফতকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান । গুরতর অসুস্থ্য আরাফতকে ওই দিন (২৩আগস্ট) বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পরে দিন ২৪আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিনই রাতে মারা যান আরাফাত।
হাসান প্যাদা বলেন, এঘটনায় শনিবার বাউফল থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তাই আজ রোববার আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে এঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক জিকির উল্লাহ মাদ্রাসা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এবিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুর বলেন,‘মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। লিখিত অভিযোগ করেননি। এখন আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশু আরাফাতের মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট বার্তাবাজারে ‘মাদ্রাসা শিক্ষকের অবহেলায় ছাত্রের মৃত্যু!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এম.এ হান্নান/বার্তা বাজার/টি