১৯, আগস্ট, ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক! অতঃপর আত্মহত্যা

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৮

প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক! অতঃপর  আত্মহত্যা

সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নে আক্তাপাড়া নয়াহাটি গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলাম ওরফে আল ইসলাম মেয়ে শামীমা বেগম (১৬)। মা জাহানারা বেগম একজন গৃহকর্মী। হতদরিদ্র পিতৃহীন শামীমা গত বুধবার সকালে আত্মহত্যা করেছে।

জানা গেছে, প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের কারণে লোক লজ্জার ভয়ে গৃহকর্মী জাহানারা বেগমের ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি গত বুধবার সকাল ৯টায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শামীমা বেগমের আত্মহত্যার পর এ নিয়ে আক্তাপাড়া গ্রামে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের প্রতিবেশী আছকন্দর আলীর ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য ছালেক মিয়ার ভাই শাহীন আলম (২৫) নামের যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল নিহত শামীমার। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ায় শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত।

অনেকেই বলেন, আক্তাপাড়া গ্রামের এক কোণে আলাদা বাড়ি হওয়ায় নিহত শামীমাদের বাড়িতে গোপনে রাতে যাতায়াত করত শাহিন। একাধিকবার শাহিনকে ধাওয়া করে ধরতে ব্যর্থ হন জাহানারা বেগম। এ নিয়ে নিজের মেয়েকেও শাসন করেন মেয়ের মা জাহানারা। ওই যুবকের ভাই সাবেক ইউপি সদস্য ছালেক মিয়ার কাছে একাধিকবার বিচার দিলে লাঞ্ছনা শিকার হতে হয় তাদের জাহানারা বেগমের।

এ ঘটনার দিন রাতেও (বুধবার) অন্যদিনের মতো গোপনে শামীমার ঘরে ঢুকে প্রেমিক শাহিন। মা ও আত্মীয়-স্বজন মিলে শাহিন ও শামীমাকে এদিন বিবস্ত্র অবস্থায় ওই রাতে তাদের ঘর থেকে আটক করে। আটকের পর ঘরের ভেতর বেঁধে রেখেছিল তাদের। ওই পরিবারে পরিকল্পনা ছিল সকালে শাহিনকে গ্রামের মুরব্বিদের সামনে হাজির করবে।

এদিকে, শামীমার মনে আশার সঞ্চার হয়, অপমানিত হয়ে হলেও শাহিন আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হবে। কিন্তু, শামীমার সেই আশায় বাদ সাধে শামীমাদের প্রতিবেশী হাছন আলী নামের উচ্ছৃঙ্খল এক যুবক। ওই গ্রামের তছকির আলীর ছেলে হাছন আলী। আটককৃত শাহিন আলমের পক্ষ নিয়ে হাছন আলী ভোরে দেশীয় অস্ত্র (রামদা) নিয়ে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা করে জোরপূর্বক শাহিন আলমকে ছাড়িয়ে নেয় এবং পালিয়ে যায়। এ সময় তাদেরকে ধরতে ও গ্রামের মুরব্বিদের বিষয়টি জানাতে সকালে যখন শামীমার মা ও আত্মীয়-স্বজন দৌড়ঝাঁপ করছিল ঠিক তখন বাড়িতে একাই ছিল শামীমা।

স্থানীয়রা ধারণা, এ বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হওয়ায় এবং প্রেমিক শাহিন আলম পালিয়ে যাওয়ায় লজ্জায় ও ক্ষোভে সকাল ৮টায় নিজ ঘরে আত্মহনন করে শামীমা।

পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার শামীমার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, মামলাটি তদন্তাধীন আছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।