মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়নের নরপাড়া গ্রামে ব্রীজে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে এলাকাবাসীর অর্থায়নে ব্রীজে তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করে আসছে এলাকাবাসী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এলাকার জন দুর্ভোগ কমাতে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রীজটি নির্মান করা হলেও নির্মান হয়নি সংযোগ সড়ক। এতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার সাধারন মানুষের। রহস্যজনক কারণে নীরব ভুমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৭ সালের শেষ অর্থবছরে এলজিইডি আওতাধীন সরিষাবাড়ী উপজেলার নরপাড়া ও গোপালপুর উপজেলার বাদাই এলাকা সীমান্তবর্তীও পিংনা ইউনিয়নের নরপাড়া গ্রামে লৌহজং শাখা নদীর ওপর বইরাগী ঘাটে অবস্থিত ব্রীজটি । ব্রীজটি নির্মান করা হয়। এই ব্রীজটি এলজিইডি অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে র্নিমান কাজ করেন গোপালপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু। দুই উপজেলার দুটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই রাস্তাটি। সীমান্তবর্তী রাস্তা হলেও ব্রীজটি সরিষাবাড়ী উপজেলার সীমানার মধ্যে অবস্থিত।
ব্রীজটির পূর্বপাড় ঘেষে সীমানা গোপালপুর উপজেলার সংযুক্ত সড়ক থাকলেও পশ্চিম পাশে কোন সংযোগ সড়ক নেই। গত দুই বছর আগে এলজিইডি বরাদ্ধকৃত অর্থ দিয়ে ব্রীজ নির্মান হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে ব্রীজটি। বন্যার মৌসুমে ছয় মাস নৌকা দিয়ে আর শুকনো মৌসুমে দুই বছর ধরে এলাকাবাসীর নিজ অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে সাকোঁ তৈরী করে অকেজো অবহেলিত ব্রীজটির সাথে সংযোগ করে গ্রামবাসীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে আসছে। রাস্তাটি গুরুত্ব বহন করলেও এমন অবস্থা দেখার যেন কেউ নেই।
গোপালপুরের বাদাই গ্রামের গোলাম রব্বানী বলেন, ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ৪/৫টি গ্রামের মানুষ, হাট বাজার, ছেলে -মেয়েদের ভালো বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গোপালপুর সদর যেতে হয়। যা সরিষাবাড়ী উপজেলার ১ কিলোমিটারের দূরত্বের মধ্যে সব সমাধান হয়। এছাড়াও কয়েকটি গ্রামের প্রায় শত-শত ছাত্র-ছাত্রী সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে। এ সব ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে ব্রীজের রাস্তা না থাকায় বাঁশের সাকোঁর রাস্তায় ঝুকি নিয়ে পারাপার হতে হয় প্রতি নিয়ত।
পিংনা ইউনিয়নের নরপাড়া গ্রামের মুন্সী সেকান্দার আলী জানান, আমরা সীমান্ত এলাকায় থাকি। আর সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের কষ্ট দুর্দশা দেখার কেউ নেই। দুই বছর আগে উপজেলার দুই সীমানায় ব্রীজটি নির্মান করা হয়েছে। ব্রীজের প্রশ্চিম পাশের রাস্তা সরিষাবাড়ী সীমানার মধ্যে পরেছে। এই রাস্তাটি জন্য পিংনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেনের সাথে দুই বছর ধরেই বারবার যোগাযোগ করে আসছি। কিন্তু এতে কোন লাভ হয়নি।
এ ব্যাপারে পিংনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয় বলেন, রাস্তার জমি নিয়ে সমস্যা থাকার কারনে সংযোগ রাস্তাটি করা সম্ভব হয়নি। রাস্তার জমির সমস্যা সমাধান করে রাস্তাটি যাতে তাড়াতাড়ি র্নিমান হয় তার ব্যবস্থা আমরা গ্রহন করবো। এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু বলেন, দুই সীমানায় রাস্তা না থাকায় যাতায়াতের জটিল একটা সমস্যা ওই এলাকা মানুষের। যাতায়াতের দূর্ভোগ নিবারন করতে একটি ব্রীজ নির্মান করেছি দুই বছর আগে। তবে এ উপজেলার ব্রীজ সংযোগ রাস্তা আছে। সরিষাবাড়ীর রাস্তাটি এখনও হয়নি। তবে রাস্তাটি নির্মান হলে এলাকাবাসী যাতায়াতের দুর্ভোগ থাকবেনা।
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, পিংনা ইউনিয়নের নরপাড়া এলাকার নির্মান ব্রীজটির সংযোগ রাস্তা নেই বিষয়টি জেনেছি। সংযোগ রাস্তাটি হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমে যাবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।