কুড়িগ্রামে খাদ্যকষ্টে পানিবন্দী ২৫ হাজার মানুষ
ভারী বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে ক্রমশ বাড়ছে এ জেলার ১৬ টি নদ-নদীর পানি। ৪২০ টি চর-দ্বীপচরের মধ্যে ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে দুই শতাধিক চর-দ্বীপচর । চরের নিম্নঞ্চলগুলো প্লাবিত হবার কারণে এখানে বসবাসরত গ্রামগুলোর ২৫ হাজার মানুষ ইতিমধ্যে পানি বন্দীর কবলে পড়েছেন।
টানা কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন চর-দ্বীপচরের গ্রাম গুলো তলিয়ে থাকার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত মানুষরা কোন ধরনের খাদ্য সহায়তা কিংবা ত্রান সামগ্রী পাননি বলে জানান খাদ্য কষ্টে থাকা এইসব মানুষরা।
নারায়নপুর চরের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন,‘আমাদের এলাকার মানুষরা বন্যার কারনে বাইরে যেতে পারছে না,এখন পর্যন্ত আমরা কোন ত্রান পাইনি।’
রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামাল গ্রামের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের গ্রাম এবং বড়বাড়িসহ চরাঞ্চলের মানুষ ত্রান সহায়তার অভাবে খাদ্যকষ্টে রয়েছেন। আমরা কোন সহায়তা পাইনি এখনো।’
যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের চর পার্বতীপুরের শিবেরপাছি, চর ভগবতীপুর ও পোড়ারচরের শতাধিক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা তালিকা প্রস্তুত করছি। দুই-একদিনের মধ্যে পানিবন্দি পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার্তদের জন্য ১২ লাখ টাকা ২৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ধরলা নদীর পানি ২৬.৭৫ সে.মি,ব্রক্ষপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২৩.৮৮ সে.মি, তিস্তা নদীর পানি ২৯.১৪ সেন্টিমিটার, আর ব্রক্ষপুত্র নুুনখাওয়া পয়েন্টে ২৬.০৯ সে.মি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছ ।
সুজন মোহন্ত/বার্তা বাজার/এসবি