একনেকে প্রকল্প পাশ হওয়ার এক বছর পার হলেও শুরু হয়নি কাজ। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপাশা ইউনিয়নকে রক্ষার জন্য ভাঙন রোধে প্রকল্প পাশ হয়।
চলমান ভাঙনে দিশেহারা হয়েছে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষেরা। পাউবো বলেছেন, কাজ শুরু করার প্রায় ৮০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরেই কাজ শুরু হবে।
গত কয়েক বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শতশত ঘর বাড়ি, মসজিদ-মন্দিন, স্কুল-মাদ্রাসাসহ সরকারি স্থাপণা। সব হারিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন অসহায় পরিবারগুলো। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে ধুলিয়া ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন ধুলিয়ার জনগণ। গত বছর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামিম এমপিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তিরা।
সর্বশেষ গত বছর ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে নদী ভাঙন রোধে ৭১২কোটি ১২লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প পাশের এক বছর অতিবাহিত হলেও অদৃশ কারনে কাজ শুরু করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শনিবার (২৮ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৭দিনে ধুলিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, মঠবাড়িয়া, নতুন বাজার এলাকায় প্রায় ৫০টি ঘর বাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।
গত রাতে ধুলিয়া বাজারের প্রায় ২০টি দোকান ও ঘর বাড়ি গ্রাস করেছে তেঁতুলিয়া। যার মধ্যে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয় সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারি মাকের্টও বিলিন হয়ে গেছে। নদীতে গর্ভে চলে গেছে সরকারি রাস্তা, ঘাট। আপনজনদের শেষ চিহৃ করবও গিলে ফেলেছে প্রমত্তা তেঁতুলিয়া।
বিলিন হবার পথে ভাষা সৈনিক ও ন্যাপ নেতা সৈয়দ আশরাফের সমাধি। হুমকিতে রয়েছে সমাজসেবক ও নদী ভাঙন রোধ কমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জেল হোসেন মফু , জেলা পরিষদ সদস্য জহির উদ্দিন বাবরের বসত বাড়িসহ প্রায় ৬০টি বসত বাড়ি। অনেককেই আবার ঘর বাড়ি ভেঙে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গতকয়েক বছরে প্রায় ১শ একক জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নি:স্ব হয়ে গেছে অসংখ্য পরিবার। নদীতে ভাঙনে সব হারিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিয়ে শতাধিক পরিবার। সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে জায়গা হয়েছে ৩৯টি পরিবারের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. দুলাল রাঢ়ী (৫০) ও অলি উল্লাহ (৪০) বলেন,‘ গতকালও ধুলিয়া বাজারে আমার দোকান ছিল। রাতের মধ্যে নদীতে বিলিন হয়েছে। সব কিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছি।
ধুলিয়া নদী ভাঙন রোধ কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ সদস্য জহির উদ্দিন বাবর বলেন,‘ তেঁতুলিয়ার ভাঙনে নি:স্ব হয়েছে শতশত মানুষ। সব হারিয়ে ঠাঁই হয়েছে রাস্তার পাশে। এখন ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সাবেক চীফ হুইপ আসম ফিরোজ এমপির প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাঙন রোধে প্রকল্প পাশ করেছেন কিন্তু অদৃশ্য কারণে ১বছরেও কাজ শুরু হয়নি।
ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মু. হুমায়ন কবির বলেন,‘ আমি নিজেও নদী ভাঙ মানুষ। আমার বসবাড়িও নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। অতিদ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু না করলে ধুলিয়াকে বাঁচানো যাবে না।
এবিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হালিম সালেহী বলেন,‘ রিটেন্ডার হয়েছে। কাজ শুরু করার প্রায় ৮০শতাংশ কাজ শেষ। সেপ্টেম্বরের শুরুতে কাজ শুরু হবে।
এম.এ হান্নান/বার্তা বাজার/টি