লিফট নষ্ট: হাসপাতালের সিড়িতেই প্রসূতির বাচ্চা প্রসব
শেরপুর জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এক গর্ভবতী নারী সিঁড়িতেই সন্তান প্রসব করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের লিফট নষ্ট থাকায় ওই প্রসূতি নারী সিঁড়ি বেয়ে পাঁচতলা গাইনি ওয়ার্ডে যাচ্ছিলেন। এসময় প্রথম তলার সিঁড়িতেই তিনি সন্তান প্রসব করেন।
এদিকে শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরের দিকে সদর উপজেলার গাজীরখামারের সুফিয়া বেগম নামের প্রসূতি মা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে লিফট না পেয়ে সিড়ি বেয়ে পাঁচ তলা গাইনি ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় প্রথম তলার সিঁড়িতেই বাচ্চা প্রসব করে।
এ বছরের ৭ জানুয়ারি লিফট ও ওই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট থেকে লিফট দুটি বিকল হয়ে আছে। ৯ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল জুড়ে রয়েছে করোনা ইউনিট, জরুরি ভর্তি রোগীর শয্যা, ডাক্তার চেম্বার, অপারেশন থিয়েটারসহ অতি প্রয়োজনীয় সেবা দানের বিভিন্ন বিভাগ।
আর গত ৮ মাস থেকে নতুন ভবনের নানা সুযোগ সুবিধার মধ্যে অন্যতম ছিল লিফট। সাধারণ সিড়ির পাশাপাশি রোগী, নার্স ও চিকিৎসকদেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে চলাচলের জন্য লিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন ভবনের দুটি লিফট চার দিন ধরে বিকল হয়ে পরে আছে।
শনিবার সরেজমিনে হাসপাতালে দেখা যায়, দুটি লিফট একসঙ্গে বিকল হওয়ায় রোগী, তাদের স্বজন ও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িতরা ওঠানামা করতে পারছেন না। লিফট বন্ধ থাকায় অসুস্থ মানুষ সিঁড়ি ব্যবহারে কষ্ট পাচ্ছেন। লিফট বিকল হওয়ায় ৯ তলা এ ভবনে উঠা-নামা করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। এদিকে চিকিৎসক, নার্সরাও রয়েছে দুর্ভোগে।
সালমা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, আমি মহিলা মানুষ। পাঁচ তলায় আমায় নাতি ভর্তি। বাপুরে অতো উপরে সিড়ি বাইয়ে উঠা খুব মুশকিল। আর পারতেছিনা। আমি হাই পেশারের রোগী। সেখানে উঠানামা করতে গেলে আমার জান বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়।
ভাতিজার সেবা নিতে আসা আব্বাস আলী বলেন, এত বড় হাসপাতালে শুধুমাত্র দুইটি লিফট দেওয়া ঠিক হয়নি। যন্ত্র নষ্ট হতেই পারে। এতো প্রয়োজনীয় একটি জিনিস ঠিক করতে এত সময় বেশী লাগাটা দুঃখজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স বলেন, ৮ তলার হাসপাতালে সিড়ি বেয়ে উঠতে খুবই ভোগান্তির ব্যপার। সুস্থ মানুষের পক্ষেই এত উপরে উঠানামা করা দুরুহ আর রোগীর জন্য কতটা কষ্টসাধ্য।
সদর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার আরএমও খায়রুল কবির সুমন বার্তা বাজারকে জানিয়েছেন, হুইল চেয়ার থেকে নামিয়ে স্ট্রেচারে নেওয়ার সময় অই প্রসূতি মায়ের বাচ্চা প্রসব করে। সেখানে থাকা চিকিৎসক ও নার্সরা নবজাতক ও মা’কে সেবা দিয়ে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে। এখন মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছে ।
সিঁড়িতেই বাচ্চা প্রসবের ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. আনোয়ারুর রউফ বলেন, লিফট নষ্ট থাকায় ওই রোগী উপরে উঠতে পারেননি। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছে।
লিফটের বিষয়ে তিনি বলেন, আর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফট দুটি বন্ধ রয়েছে। লিফট চালু করতে ইতিমধ্যে জেলার গণপূর্ত বিভাগকে অবগত করা হয়েছে। গণপূর্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ শেরপুর গণপূর্তের নির্বার্হী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান বার্তা বাজারকে জানান, লিফটে পানি ঢুকলে লিফট নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অবগত করা হয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
বার্তা বাজার/টি