জিয়ার কবরের স্থাপনা এবং লাশ নিয়ে উত্তাল রাজনীতির মাঠ (ভিডিওসহ)
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে লাশ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ ভবনের সীমানা থেকে সড়ানো হবে জিয়ার কবর।
শনিবার (২৮ আগস্ট) সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড’ শীর্ষক সেমিনারে বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের জানাজায়ও হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। কিন্তু কফিনে তো তার লাশ ছিল না। তেমনি জিয়াউর রহমানের কফিনে লাশ ছিলো না’
শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনদৃষ্টি ভিন্নখাতে সরাতেই সরকার চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
মির্জা ফখরুল জানান, তাদের এসব কথা বলার মানে হচ্ছে তারা কিছু ইস্যু তৈরি করছে। তারা যে রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে গেছে এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা মাত্র।
অপরদিকে দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু কর্মশক্তিতে বলিয়ান শিক্ষাদর্শন ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিসহ অন্যান্য স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশার বাইরে সরিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার লাশ নেই। কারণে খুনিরা তখনই বলেছিল, জিয়াউর রহমানের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক জানান, চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার মরদেহ আছে এটা বিএনপি প্রমাণ করুক। পারলে ডিএনএ পরীক্ষা করে প্রমাণ দেন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মূল আলোচ্য বস্তুতে পরিণত হওয়া চন্দ্রিম উদ্যান তথা জিয়া উদ্যানে আদৌ জিয়ার কবর এবং অন্যান্য স্থাপনা পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে নাকী তা অপসারণ করা হবে তা নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
ইতিপূর্বে ২০১৬ সালে সংসদ সংসদ ভবনের পাশ থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সড়িয়ে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সেক্টর কমান্ডারদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় নেয়ার সিদ্ধান্তে উপণীত হয়েছিলো গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
বার্তা বাজার/এসবি