সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দুটি লিফটই চার দিন ধরে বিকল হয়ে আছে। লিফট বিকলে বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছেন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। এদিকে চিকিৎসক নার্সদেরও ভোগাচ্ছে এই দুর্ভোগ।
৮তলা বিশিষ্ট ওই হাসপাতালজুড়ে রয়েছে করোনা ইউনিট, জরুরি ভর্তি রোগীর শয্যা, ডাক্তার চেম্বার, অপারেশন থিয়েটারসহ অতি প্রয়োজনীয় সেবা দানের বিভিন্ন বিভাগ।
জানা গেছে, এ বছরের ৭ জানুয়ারি লিফট ও ওই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। এই আট মাসের মধ্যে দুটি লিফটই অন্তত চারবার নষ্ট হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ আগস্ট থেকে লিফট দুটি বিকল হয়ে আছে। এতে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে করোনা আক্রান্ত, প্রসূতি নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, দুটি লিফট এক সাথে বিকল হওয়ায় রোগী, রোগীর স্বজন ও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িতরা উঠানামা করতে পারছেন না। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ড ৭ম তলায় হওয়ায় সেখানে উঠানামা করতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও সাধারণের অভিমত এত বড় হাসপাতালে শুধুমাত্র দু’টি লিফট দেওয়া ঠিক হয়নি। আরও বেশি লিফট দরকার ছিল।
সালাউদ্দীন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, আমার নাতি শিশু বিভাগে ভর্তি। আমি হাই পেশারের রোগী। সেখানে উঠানামা করতে গেলে আমার জান বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়।
রাবেয়া বেগম নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, আমি মহিলা মানুষ। পাঁচ তলায় আমায় নাতি ভর্তি। বাপুরে অতো উপরে সিড়ি বাইয়ে উঠা খুব মুশকিল। আর পারতেছিনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স বলেন, ৮ তলার হাসপাতালে সিড়ি বেয়ে উঠতে খুবই ভোগান্তির ব্যপার। সুস্থ মানুষের পক্ষেই এত উপরে উঠানামা করা দুরুহ আর রোগীর জন্য কতটা কষ্টসাধ্য।
সদর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার খায়রুল কবির সুমন বার্তাবাজারকে জানিয়েছেন, ৮ম তলায় কাজ চলছে। সেখান দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে চারদিন যাবৎ লিফট নষ্ট। ঠিক করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ারুর রউফ বার্তাবাজারকে বলেন, লিফট চালু করতে ইতোমধ্যে জেলার গণপূর্ত বিভাগকে অবগত করা হয়েছে। গণপূর্ত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বার্তা বাজার/টি