কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক সংখ্যালঘু বিধবা নারীর উপর হামলা ও শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের সেনের খামার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারীর নাম স্বপ্না রানী। তিনি একই গ্রামের মৃত উদয় চন্দ্রের স্ত্রী। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে স্বপ্না রানী বর্তমানে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার (২৫ আগষ্ট) সকালে বাড়ির পাশে প্রাতঃভ্রমণ করছিলেন স্বপ্না রানী। তাকে একা পেয়ে স্থানীয় নুর মোহাম্মদ কুপ্রস্তাব দিয়ে জোড়পুর্বক টানহ্যাঁচড়া করতে থাকেন। স্বপ্নার আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে নুর মোহাম্মদ পালিয়ে যায়।
এ ঘটনাটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়া মীমাংসার দায়িত্ব নেন। নুর মোহাম্মদ এ ব্যাপারে কোন পাত্তা দেননি। তাই স্বপ্না রানী বাদী হয়ে শুক্রবার (২৭ আগস্ট) নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের (৩৬) নেতৃত্বে ১৪-১৫ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাতে লাঠিসোটা ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে স্বপ্নার বাড়িতে হামলা চালায়।
তারা বাড়ির দরজা, জানালা ও বেড়া ভাংচুর করে। বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হয়েছেন স্বপ্না রানীর শ্বাশুড়ি বিনোদিনী রানী (৫৮) ও দুই দেবর সুধাংশ চন্দ্র রায় (৩৬) ও বরুন চন্দ্র রায় (২৭)। তাদের মধ্যে বিনোদিনী রানী ও সুধাংশুকে ভর্তি করা হয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে।
হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতেনাতে আটক করেন প্রধান অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের বাবা কিফিল উদ্দিনকে। অন্যরা ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যায়।
স্বপ্না রানী বলেন, কয়েক মাস ধরে নুর মোহাম্মদ তাকে বিরক্ত করে আসছিলেন। দেখা হলে আজেবাজে কথা বলতেন। সকালে প্রাত:ভ্রমনের সময় তাকে একা পেয়ে জোরপুর্বক শ্লীতাহানি ঘটানোর চেষ্টা করেন। নুর মোহাম্মদ ও তার লোকজন বাড়িতে হামলা, ভাংচুর করে তার শ্বাশুড়ি ও দেবরদের পিটিয়ে আহত করেছেন। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি জানান।
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান, স্বপ্না রানীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ঘটনায় একটি বৈঠকের আয়োজনা করা হলেও অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ কোন পাত্তা দেয়নি। স্বপ্না রানী ও তার পরিবারের লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।
ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায় জানান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছেন। প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যদের আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে। বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও আহত করার ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগি পরিবার/
সুজন মোহন্ত/বার্তা বাজার/এসজে