আগস্ট মাসে জাতির পিতার অবমাননা বরদাশত করা হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাস শোকের মাস, ষড়যন্ত্রের মাস, জাতির পিতাকে হারানোর মাস। এই জাতিকে কে মুক্তির সাধ দিয়েছিলেন? একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা কে? সেটা ভুলে গেলে চলবে না।
আগস্ট মাসে যে অনুষ্ঠানের ব্যানারে স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নেই, সে অনুষ্ঠানে আমি বক্তব্য দিতে পারি না বলে তিনি তার বক্তব্য সে পর্যায়েই সমাপ্ত করেন।
এছাড়াও তিনি সংক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “শোকের মাস আগস্টে অনুষ্ঠিত এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি নেই তা মেনে নেওয়া যাবে না।ভবিষ্যতে এধরনের সকল অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকলে আমি উপিস্থিত থাকবো না।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি টাকার প্রকল্প পরিচালনা করা হবে, কিন্তু জাতির পিতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন না সেটা আমরা কখনই মেনে নিবো না। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে, একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের সন্তান হিসেবে আমি তা মানতে পারব না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার ধারাবাহিকতার কারণে দেশ অগ্রগতির সকল সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, দেশরত্ন শেখ হাসিনা অনগ্রসর ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে তাদের সমাজের মূলস্রোতধারায় আনতে হবে।
শুক্রবার (২৭ আগস্ট) জামালপুরে বিকাল ৪ টায় মির্জা আজম অডিটোরিয়ামে, “অনগ্রসর ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আত্নকর্মসংস্থানমূলক কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক”- প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন এবং প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চের ব্যানারে জাতির পিতা ও শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার না করায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, টেকসই উন্নয়নে এ টেকসই প্রশিক্ষণ উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতার সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে,তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জাতির পিতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
জামালপুরে এই প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনে ৪৫০ জন এবং ড্রাইভিং কাম অটোমেকানিক কোর্সে ২৫২০ জনকে (সর্বমোট ২৯৭০জন) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোর্শেদা জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল এমপি, মির্জা আজম এমপি, মোজাফফর হোসেন এমপি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি/সম্পাদক ও পৌর মেয়র ছানু।
মোস্তাক আহমেদ মনির/বার্তা বাজার/টি