রায়পুরায় মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে মাদ্রাসা-কবরস্থান
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরের চরে ফের মেঘনা নদীর ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী কবরস্থান এবং মাদ্রাসা বিলীন হওয়ার পথে।
গত কয়েকদিন যাবত উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরের চর গ্রামে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এখানে নতুন করে শত বছরের ঐইতিহ্যবাহী কবরস্থান, মাদরাসাসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে বেশকিছু ফসলি জমি ও বসত বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে নদী গর্ভে। ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জমি হারা লোকজন চরম হতাশায় দিন পার করছেন। সরকারি কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন ভাঙন কবলিত ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীরা জানান, ফকিরের চর গ্রামে মেঘনা নদীর অব্যহত ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতভিটা স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান, হাটবাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অতি দ্রুত এখানে স্হায়ী প্রতিরক্ষা বাধ নির্মাণ না করা হলে পুরো গ্রামটিই মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান। মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের করাল গ্রাস থেকে বসতবাড়ি, ফসলি জমিসহ গ্রামটিকে রক্ষা করতে ৩০ বছর যাবত বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দাবি করে আসছে তা এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
রংপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক ফরিদ মিয়া বলেন, নিচু চর অঞ্চলের মানুষ গুলো বর্ষাকালে এখানে বহু দূর দূরান্ত থেকে কবর দিতে আসতো। আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূরে এই কবরস্থান বাবা মা আত্মীয় স্বজনরা এখানে শায়িত। এভাবে নদী ভাঙ্গন চলতে থাকলে কবর,মাদরাসাসহ গ্রামটি সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে যাবে। এ সমস্যা থেকে চরের মানুষ পরিত্রাণ পেতে চায়।
মাদরাসার কমিটির সম্পাদক সায়েদ বেপারি বলেন, অত্র এলাকার ঐতিহ্যবাহী কবরস্থান ও মাদরাসাটি নদীগর্ভে বিলীনের পথে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খোঁজখবর নিতে সরকারি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। রাক্ষসী নদীর সাথে ঠিকে থাকা বড় দায়। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।
মাদরাসার মোহতামিম কাদির মোল্লা বলেন, ২০০০ সালে গ্রামবাসীর সহায়তায় কবরস্থানের পাশে প্রতিষ্ঠিত মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া এতিমখানা মাদরাসাটি প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ জমি খেলার মাঠ, ঘর, অজুখানার, টয়লেট, গাছপালা ইতি পূর্বে নদী গর্ভে বিলিন। আর কত দিন থাকতে পারবো কে জানে। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ হলে অবশিষ্ট অংশটুকু রক্ষা করা সম্ভব।
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আযান বলেন, এখানকার নদী ভাঙ্গনের তিব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। এ বছর না হলেও আগামী বছর বেড়িবাঁধ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শন্কর চক্রবর্তী বার্তা বাজারের প্রতিনিধিকে বলেন, রায়পুরার ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলোতে প্রকল্প প্রনয়ন করে স্হায়ী প্রতিরক্ষা বাধ নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া আসন্ন বর্ষা মৌসুম শেষ হলে আমরা সাময়িক কাজ করে দিব।
একে এম রেজাউল করিম/বার্তা বাজার/এসজে