এমপিকে ‘দেখেইনি’ গ্রামবাসী, বাধ্য হয়ে নিজেরাই নির্মাণ করলেন রাস্তা

দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় খোঁজ নেয়না জনপ্রতিনিধিরা। তাই বাধ্য হয়ে চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করতে নামলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের চর জগনাথপুর ও পাশ্ববর্তী জেলা পাবনার ভাঁড়ালা ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের চর ভবানীপুর গ্রামবাসীরা।

দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারে ভোটার সংখ্যা রয়েছে প্রায় দুই হাজার দুইশ। এছাড়াও প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস এখানে। কিন্তু যোগাযোগের জন্য নেই কোন কাঁচা বা পাকা রাস্তা। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির সরু ও চিকন পথ ধরে কাঁদা পানি মারিয়ে কোনোরকমে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নির্বাচিত মেম্বার, চেয়ারম্যান ও এমপিরা খোঁজ খবর নেয়না। ফলে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে তাঁদের রাস্তার সমস্যা। তাই বাধ্য হয়ে দুই গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে এবার হচ্ছে রাস্তা। সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি থেকে পাঁচশ থেকে দুই হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে চলছে নির্মাণ কাজ। রাস্তাটি স্থানীয় মকসেদ প্রামাণিকের বাড়ি হতে মোহাম্মদ আলী জিন্নার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রমত্ত পদ্মা নদী দ্বারা বিভক্ত কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলা। পদ্মার দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের চর জগনাথপুর গ্ৰাম। এছাড়াও ভৌগলিক কারনে পাবনার ভাঁড়ালা ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের চর ভবানীপুর গ্রামটিও দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। সীমান্তবর্তী দুই গ্রামে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস।

কিন্তু কাঁচা বা পাকা নির্দিষ্ট কোন রাস্তা নেই। ফলে সরু ও চিকন পথ দিয়ে কাঁদা পানি পাড়ি দিয়ে চলাচল করছে বাসিন্দারা। এতে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জরুরী সেবাসহ উন্নত জীবন ব্যবস্থা। তাই সার্মথ্য অনুযায়ী গ্রামের লোকজন চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে রাস্তা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ প্রামাণিক (৫০) বলেন, কাঁদা পানি দিয়ে চলাচল করতে করতে জীবনটা কেটে গেল। কিন্তু এক ঝুড়ি মাটি ফেলেও কেউ রাস্তা করেনি। বছরে কয়েকবার মেম্বার চেয়ারম্যানের দেখা পেলেও এমপি কে দেখিনি কোনোদিন।

গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, ধান-চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনে আমাদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে হাটু পানি ভেঙে চলাচল করতে হয়।

গ্রামের রফিকুল বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান মেম্বারদের জানালেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী মিলে টাকা তুলে নিজেরা শ্রম দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছি।

পাবনার ভাঁড়ালা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মেহেদী হাসান বলেন, একটি রাস্তার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে মানুষ ভুগান্তিতে রয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। এখন এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করছি।

কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক খান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় জায়গা-জমির ঝামেলা আছে। সেখানে পাবনার অংশ বেশি। তাই রাস্তা করা সম্ভব হয়নি।

মোশারফ হোসেন/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর