১৭, আগস্ট, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

শিক্ষার্থীদের জীবন শঙ্কায় কাঁদলেন তিনি!

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৮

শিক্ষার্থীদের জীবন শঙ্কায় কাঁদলেন তিনি!

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছেড়ে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে এই ঘোষণা এসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের উপস্থিতিতে। এতে ৪২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের পরদিন থেকে আন্দোলনে নামে সারাদেশের ছাত্ররা। কিন্তু সম্প্রতি এই আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান। তিনি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরকে অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। তার মধ্যেই সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সব কিছু পূরণ করারও আশ্বাস দেন।

যার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায় ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকালই এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। রাজধানীর কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একইসঙ্গে এই আইনে তাদের দেওয়া পরামর্শগুলো অন্তর্ভুক্ত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই তারা এটিকে মানুষের প্রাণের দাবিতে রুপান্তর করেছে। এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করেছে, অবরোধ করেছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে সড়কে কত নৈরাজ্য। কত বিশৃঙ্খলা। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের টনক নড়েছে।’

‘তবে আমি এখন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত। কারণ, এখানে শুরু হয়েছে নোংরা রাজনীতি। যারা এই আন্দোলন নিয়ে ফায়দা লুটতে চান তারা কতটা অমানবিক হতে পারে তা আপনাদের অজানা নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেউ রাজনীতি করতে পারে; সেটা ভাবতেও আমার ঘৃণা হয়। চারদিকে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে সুযোগ সন্ধানীরা।’

‘ইতোমধ্যে যা শুরু হয়েছে সেটি যে দলই করুক অত্যন্ত জঘন্য। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঘরে ফিরেছে। আবার অনেকে রাজপথে আছে। আমি তোমাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত। তোমাদের জীবনের জন্য তোমরা ঘরে ফিরে যাও। যদি আমাদের দাবি আদায় না হয়, তাহলে আমরা আবারও রাস্তায় নামবো। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন’ সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী হারানো একসময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেতা।