অধ্যক্ষকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিল ছাত্রলীগ নেতা

নারায়ণগঞ্জের জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। হুমকিদাতা ছাত্রলীগ নেতার নাম দ্বীন ইসলাম। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সহ- সম্পাদক।

এ হুমকির ঘটনায় গতকাল বুধবার (২৫ আগস্ট) রাতে অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২০৩) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা করেন, এদিন বিকেল তিনটার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষে ওই ঘটনা ঘটে।

তবে ছাত্রলীগ নেতা দ্বীন ইসলামের দাবি, ‘দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তানভীন জেএসসি ও এসএসসিতে এ-প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এছাড়াও সে প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার পরও তার ফরম ফিলাপের অনুমতি দেয়নি অধ্যক্ষ। আমি বিষয়টির জন্য অনুরোধ করতে গেলে আমাকে গালাগাল ও মারার হুমকি দেয়। আমি সেখানে একা গিয়ে কিভাবে গুলি করার হুমকি দেবো?’

গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ গিয়াস উদ্দিন।

এদিকে, ওই অধ্যক্ষ সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত তানভীন নামে এক শিক্ষার্থী গত দেড় বছর অনলাইন ক্লাস করাসহ কোনো প্রকার অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়নি। এই ঘটনা তার পিতা তাজুল ইসলামকে জানালে তিনি দু’বার অঙ্গিকারনামা দেন। এরপরও সে অনলাইন ক্লাস থেকে বিরত থাকেন। তারপরও এই শিক্ষার্থীকে এইচএসসির ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু গেল দেড় মাসেরও কিছু বেশি সময় ধরে সে অনলাইন ক্লাস না করে ইউটিউব দেখে দেখে অ্যাসাইনমেন্ট কপি করে জমা দেয়। ফলশ্রুতিতে তাকে এইএচএসসির ফরম ফিলাপের সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে বুধবার দুপুর দুইটার দিকে তার পিতা তাজুল ইসলামকে ফোন করে জানান অধ্যক্ষ নিজেই।

জিডিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন , তাজুল ইসলামের সাথে কথা বলার কিছুক্ষণ পর দ্বীন ইসলাম নামে একজন ছাত্রলীগ নেতা এসে জানতে চান তানভীনকে কেন ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না। তারপর সে আমাকে (অধ্যক্ষকে) গুলি করার হুমকি দেয় এবং রাস্তায় বের হলে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা দ্বীন ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু তানভীনকে ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার বাবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। তিনি আসবেন রাতে।

তাই বিষয়টি আমাকে দেখার জন্য বললে আমি তানভীনের পক্ষ নিয়ে কলেজে যাই। কিন্তু অধ্যক্ষ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং অন্যান্য শিক্ষককদের নিয়ে আমাকে আটকে মারধর করতে চেয়েছিলেন। আমি কোনো রকমে তার রুম থেকে বের হয়ে আসি।

তিনি আরও জানান, ওই অধ্যক্ষ অনেক সময় অভিভাবকদের সাথে বাজে ব্যবহার করেন। করোনায় পরিবহন সেবা বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেন উনি। তাছাড়া কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ থাকলেও ওনি ফি নেন বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগের এই নেতা।

সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুজ্জামান।

তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর