পটুয়াখালীর বাউফলে মাদ্রাসা শিক্ষকের অবহেলায় মো. আরাফাত (৮) নামের এক ছাত্রের করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। নিহতের পিতার নাম মো. হাচান প্যাদা। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকালে ওই শিশুকে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু আরাফাত।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গত রবিবার বিকেলের দিকে আরাফাত মাদ্রাসার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়। আরাফাতের আহত হওয়ার বিষয়টি আমলে না নিয়ে উপরন্তু আরো তিরস্কার করেন কাশিপুর আল ইয়াসিন শিশু সদন এতিমখানা ও মারকাযুল নুর ইয়াসিন হাফিজিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. জিকিরউল্লাহ(৫০)।
ঘটনার একদিন পরে আরাফাতের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে সোমবার সকালে বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় আরাফাত।
পোষ্টমর্টেম শেষে বৃহস্পতিবার সকালে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সিদ্দিক বাজার এলাকায় পারিবারিক কবরন্থানে আরাফাতের দাফন কার্য সম্পাদন করা হয়। এ ঘটনায় ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. জিকিরউল্লাহ বলেন, সিড়ির রেলিং না থাকায় পা ফসকে নিচে পড়ে যায় বাচ্চাটা। তেমন কোনো অসুবিধা না হওয়ায় আমরা মাগরিবের নামাজ পড়তে যাই। রাতেও বাচ্চাটাকে সুস্থ অবস্থায় দেখছি। সকালে যখন সে তাঁর মায়ের সাথে যায় তখনও সে সুস্থ ছিলো।
রেলিংবিহীন এমন ঝুঁকিপূর্ন ভবনে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা কিভাবে করলেন এবং আহত হওয়ার পরেও কেনো ওই শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো না জানতে চাইলে এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নাই তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. আল মামুন বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তা বাজার/এসজে