আবারও মহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলো ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার অন্তত ৪টি গ্রাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আবারও পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সদর ইউনিয়নের জয়পুর অংশের একটি বাঁধ ভেঙে বুধবার দিনগত রাতে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে।
এতে প্লাবিত হয়েছে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের জয়পুর, ঘনিয়ামোড়া, পূর্ব ঘনিয়ামোড়া ও কিসমত ঘনিয়ামোড়াসহ অন্তত ৪টি গ্রাম। হাঁটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে গেছে ফুলগাজী উপজেলা সদর। বসতঘরের পাশাপাশি পুকুর, ফসলি ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা সদরের সড়ক ও হাট-বাজারের পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেনী জেলা শহরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে।
নদীর পানি বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে মুহুরী নদীর ভাটি এলাকার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানির বাড়া অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর দিন কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।
উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানির চাপে মুহুরীর বাঁধের সদর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের অংশ ভেঙে যায়। আস্তে আস্তে পানির চাপ বাড়তে বাড়তে তা লোকালয়ে ঢুকে পড়লে ৪ টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ে।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের জয়পুর অংশে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়।
ফুলগাজীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম বলেন, মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের একটি স্থানে ভাঙনের ফলে সদর ইউনিয়নের চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও পরশুরামের কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বলেন, বিকেলে পানির প্রবাহ বেশি ছিল। দুপুরে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উজানে বৃষ্টি না হলে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। পানি নেমে গেলেই আমরা ভাঙা বাধের মেরামত করতে শুরু করবো।
এর আগে গত ১ জুলাই টানা বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তিনটি স্থান ভেঙ্গে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানি বন্দী হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ। বন্যার পানিতে ভেসে যায় কয়েক’শ পুকুরের মাছ। নষ্ট হয় ফসলি জমিসহ উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থা।
কামরুল হাসান ছিদ্দিকি/বার্তা বাজার/এসজে