পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের বাহেরচর-গহীনখালী খালের উপর নির্মিত আয়রন সেতুটি বেহাল অবস্থায় জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। সংস্কারণ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ৯ বছর কেটে গেলেও মিলেনি তাদের দৃষ্টি-পলক। ফলে কেটে যাওয়া ৯ বছরের ন্যায় এখনো চলছে পথচারীদের ভোগান্তির রথযাত্রা। এই সমস্যার কবে নিরসন ঘটবে তাই নিয়ে চিন্তিত কোমলমতি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ শত শত পথচারী ও পরিবার।
জানা যায়, রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের বাহেরচর ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী-বড়ইতালা যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রায় দেড়যুগ আগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয় সেতুটি। ফলে টলার-কার্গো চলাচলের সময় ধাক্কা লেগে নড়বড়ে হয়ে যায় সেতুটি। একটা সময় লোকজন পারাপারের অযোগ্য হয়ে পড়ে সেতুটি। তারপর ২০১২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হিসেবে ঘোষণা করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি অনেক বার ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সেতুটি মেরামত করা হয়েছেও অনেক বার। কিন্তু কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মেরামত করায় স্থায়িত্ব বেশি দিন হয়না।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ পুঁতে সেতুটিকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। কাঠের পাটাতন দ্বারা ধ্বসে পড়া কনক্রিটের ফাঁক স্থান পূরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কাঠের পাটাতন ডেঙে ও ফাঁক হয়ে গেছে। যার ফলে সেতুটি মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
চা দোকানি মো. সাইম বলেন, ‘সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নাজেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটির দু’পাড়ে বাজার হওয়ায় ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সেতুটি জরুলী ভিত্তিতে দরকার। নইলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন খান জানান, ‘নয় বছর পার হয়ে গেছে, সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার দাবি জানিয়েছি। এ বিষয়ে তাদের কোনো অগ্রগতি দেখছি না।’
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুল কবির বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ হয়েছে, ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে এই ব্রিজের নাম দেওয়া হয়েছে। ইনশাল্লাহ প্রজেক্টের অনুমোদন হলেই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ দ্রুত নেয়া হবে।’
সাইফুল ইসলাম সায়েম/বার্তা বাজার/এসজে