১৯, আগস্ট, ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

বেনাপোল বন্দরে মহাসড়ক বন্ধ করে ‘চ্যাসিজ পার্কিং’

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৮

বেনাপোল বন্দরে মহাসড়ক বন্ধ করে ‘চ্যাসিজ পার্কিং’

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর আমদানিকৃত ট্রাক-চ্যাসিজ পার্কিং করে যানবাহন চলাচল বন্ধ ও পথচারীদের দুর্ভোগে ফেলছেন অশোক লিলেন্ড মটরস কোম্পানির প্রতিনিধিরা। শুধু অশোক লিলেন্ড নয়, টাটা ও আইসার নামের কোম্পানির চ্যাসিজ পার্কিংয়েও এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে মহাসড়কের এক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে এ অবস্থা থাকলেও ট্রাফিক পুলিশের কোনো পদক্ষেপ নেই। রাজস্ব আয়ের অজুহাতে মানুষের দুর্ভোগ আমলে নিচ্ছেন না বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তারাও।

তবে মোটরযান আমদানি কোম্পানির দাবি, বন্দরে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর চ্যাসিজ পার্কিং করতে হয়েছে তাদের।

সোমবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের বন্দরের সামনে ব্যস্ততম সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, টু লেনের সড়কের দুই ধারেই ৪টি লাইন করে এক কিলোমিটার রাস্তার ওপর পার্কিং করা রয়েছে অশোক লিলেন্ড,টাকা ও আইসার কোম্পানির ট্রাক চ্যাসিজ। এতে রাস্তার এক অংশ সম্পূর্ণভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে অশোক লিলেন্ডের গাড়ি বেশি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এছাড়া মানুষ চলাচলের ফুটপাত দখল করেও চ্যাসিজ পার্কিং থাকতে দেখা যায়। এতে বিভিন্ন ভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

স্থানীয়রা বলছেন, অশোক লিলেন্ডসহ কয়েকটা কোম্পানি সম্প্রতি ট্রাক চ্যাসিজ আমদানি বাড়িয়েছেন। তবে রহস্যজনক কারণে বন্দর থেকে দ্রুত এসব ছাড় করান না তারা। মাসের পর মাস বন্দরের বাইরে মহাসড়কের ওপর অনিয়ম করে রেখে দেওয়া হয়। এত বড় অনিয়ম হলেও যেন দেখার কেউ নেই।

স্থানীয়রা জানান, এসব আমদানিকারকদের যদি দ্রুত পণ্য খালাস নেওয়ার প্রয়োজন না থাকে তাহলে এত ব্যাপক হারে আমদানি করে পণ্যজট সৃষ্টি করে লাভ কি? এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে? বিষয়টি ভালোভাবে ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। এসব পণ্যের কারণে বন্দরে সবসময় যানজট লেগে থাকে।

অশোক লিলেন্ড কোম্পানির সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি ফয়সাল এন্টার প্রাইজের চ্যাসিজ তত্ত্বাবধানকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বন্দরের মধ্যে কোনো যায়গা নেই। তাহলে রাখবো কোথায়? এতে তাদের পণ্যেরও ঝুঁকি রয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় আমদানিকারকদের জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনোভাবে শুনছেন না। আইন প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে।

বেনাপোল কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেন জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছেন। বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা চ্যাসিজগুলো দ্রুত খালাস নেওয়ার ব্যাপারে তারা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের চাপও দিয়ে থাকেন।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন সমস্যায় ব্যবসায়ীরা দিন দিন এ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে রাজস্ব আয়েও ঘাটতি পড়ছে। এত টাকা বন্দর আয় করছে কিন্তু বন্দর উন্নয়নের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, বন্দরে যায়গা সংকটের কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে মহাসড়কের ওপর থেকে যাতে পার্কিং উঠে যায় সেই বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।