১৭, আগস্ট, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

নায়িকা কঙ্গনা পড়েছেন পবিত্র কোরআন শরিফ!

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৮

নায়িকা কঙ্গনা পড়েছেন পবিত্র কোরআন শরিফ!

স্পষ্টভাষী হিসেবে বলিউডপাড়ায় সবচেয়ে পরিচিত নায়িকা কঙ্গনা রানাউত। নারীর অধিকার নিয়ে বেশ সচেতন তিনি। এবার জানালেন, আধ্যাত্মচিন্তার প্রতিও আকৃষ্ট তিনি। পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো পড়েন। ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরিফও পড়েছেন বলে জানিয়েছেন এ নায়িকা।

কঙ্গনা বলেন, ‘আমি পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো পড়েছি। ভাগবত গীতা, বাইবেল, কোরআনের বেশ কিছু অধ্যায়, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে বই, বেদান্ত এবং দীপক চোপড়ার মতো আধুনিক দার্শনিকের বইও পড়েছি।’

কঙ্গনা সদগুরু যোগী বাসুদেবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে চান। বলেন, তিনি ‘ইনার ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি বই লিখেছেন, যার চিন্তাদর্শন একেবারেই নতুন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী জানান, ভারতীয় ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক স্বামী বিবেকানন্দের ব্যবহারিক ও বিজ্ঞানসম্মত ভাবনা তাঁর (কঙ্গনা) জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেক আগে থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠিত ধর্মগ্রন্থগুলো পড়েন। আধ্যাত্মচিন্তায় মশগুল থাকেন।

কঙ্গনা বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনে যে কারণ ও প্রভাব নিয়ে ব্যাখ্যা রয়েছে, তা আমার ভেতরে গভীর ছাপ ফেলেছে। কর্মজীবী নারী হিসেবে ছোট ছোট ভাগে এ দর্শন আমার লক্ষ্য বিনির্মাণে সাহায্য করে। কখনো একটি অংশ, আবার কখনো একটি পুরো বিষয় অর্জনে সাহায্য করে।’

কঙ্গনা তাঁর দেশ ভারতের নারী ও নতুন প্রজন্ম নিয়েও কথা বলেছেন। বলেছেন, ‘হয় আমরা সম্পূর্ণ সঠিক জায়গায় যাব, নয় সম্পূর্ণ ভুল জায়গায়। আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আছি। ব্যক্তিগত আদর্শ ও লক্ষ্যের চেয়ে আমাদের এখন সমষ্টিগত আদর্শ ও লক্ষ্য জরুরি। এখনই পরীক্ষা করা জরুরি, আমাদের সমাজে কী আছে আর কী ঘাটতি আছে। আমার আলোচনার প্রথম পয়েন্ট এগুলোই।’

আসন্ন চলচ্চিত্র ‘মনিকর্নিকা : দ্য কুইন অব ঝাঁসি’ নিয়েও কথা বলেন কঙ্গনা। বলেন, ‘তিনি একজন শহিদ। জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এটা আমার ব্যক্তিত্বে ভিন্ন মাত্রা এনেছে। আমি যখন অন স্ক্রিনে অভিনয় করি, তখন চরিত্রের ভেতর ঢুকে পড়ি। এটা সচেতনভাবে না, তবে যখন ফিরে তাকাই, দেখি আমি চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়েছিলাম। মাঝেমধ্যে আমি ওই চরিত্রের মতোই আচরণ করে ফেলি।’

সম্প্রতি আরেক অনুষ্ঠানে কঙ্গনা বলেন, তিনি সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, এমনকি খুব অল্প বয়সেও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। কঙ্গনা আরো বলেন, ‘ভারতীয়রা এমনিতেই একটু বেশি সহানুভূতিশীল। সব সময়ই অনুনয়-বিনয়ের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে তাদের আরো বেশি দৃপ্ত, বলিষ্ঠ হতে হবে। এতে তারা জীবনে আরো উন্নতি করবে এবং জীবনটাকে ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে।’

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সাহসী অভিনয়ের জন্য কঙ্গনা বেশ জনপ্রিয়। ভিন্ন ধারার অভিনয় দিয়ে এর মধ্যেই অসংখ্য মানুষের মন জয় করেছেন। এর জ্বলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত ‘ফ্যাশন’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘কুইন’, ‘তনু ওয়েডস মনু’র মতো সুপারডুপার হিট ছবিগুলো।