চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার বিলভাতিয়া (ফলিমারী বিল) সোনাজোল এলাকায় গত ২৩ আগষ্ট সন্ধ্যা রাতে ৩টি ঢাকা কোচসহ প্রায় ৩০টি বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতির ঘটনায় ৪ জন ডাকাতকে আটক করেছে র্যাব ৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাত দলের ৪ জন সদস্যকে আটক করে র্যাব।
আটককৃত ডাকাতরা হচ্ছে, ভোলাহাট উপজেলার বড়গাছি হাট এলাকার মোঃ আফজাল হোসেনের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩০), মোঃ মহসীন এর ছেলে মোঃ লাল্টু মিয়া, মোঃ ইউসুফ আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল জাব্বার (২২) ও মোঃ আব্দুল শুকুর আলীর ছেলে মোঃ মোকলেছুর রহমান (৪৮)।
বুধবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় র্যাব ৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার লে. কর্ণেল জিয়াউর রহমান জিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ আগস্ট রাত্রী পৌনে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী বিল সংলগ্ন হিরো ইট ভাটার সামনে পাঁকা রাস্তার উপর সোনাজল এলাকায়-জমজম ট্রাভেলস,সাথী এন্টারপ্রাইজ এবং চাঁপাই ট্রাভেলসে অনুমানিক ১৫/১৬ জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত হাফপ্যান্ট পরিহিত অবস্থায় গায়ে গেঞ্জি ও হাতে লোহার রড, হাসুয়া, ছোড়া, চাকু এবং লাঠি দিয়ে অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক এবং ভুটভুটি চালক ও হেলপারদের মারপিট করে ট্রাক এবং ভুটভুটি রেখে রাস্তায় বেরিকেট দিয়ে ডাকাতি করেছে।
এসময় বহনকারী বাসের যাত্রী/ড্রাইভার এবং হেলপারের কাছ থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণলংকার ও মোবাইল সেট লুট করে নেয়।
এঘটনায় র্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ২৪ আগস্ট রাত্রী আনুমানিক দেড়টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের ৪ জন সদস্য একই এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩০), মোঃ লাল্টু মিয়া, মোঃ আব্দুল জাব্বার (২২) এবং মোঃ মোকলেছুর রহমান (৪৮) কে গ্রেফতার করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ডাকাতি ঘটনায় র্যাবকে আহত একজন বাসের হেলপার আনোয়ার ডাকাতকে সনাক্ত করে। উক্ত ডাকাত আনোয়ার হেলপারকে বাসের গেইট খোলায় দেরী হওয়ার জন্য বড় রড দিয়ে প্রচন্ড পরিমানে আঘাত করে এবং বাকী তিনজন ডাকাত স্বীকার করে যে তারা তিনজন সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিল। উক্ত ডাকাতির ঘটনায় মূল আসামীসহ অন্যান্য আসামী এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে আমাদের র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ডাকাতির ঘটনায় ভোলাহাট থানায় ২৪ আগষ্ট একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, লুন্ঠিত মালামাল, নগদ ক্যাশ-৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৯’শ টাকা, ১৬টি মোবাইল সেট (মূল্য-১ লক্ষ ৩২ হাজার ৯’শ টাকা, স্বর্ণঅলংকার-৬ ভরি ২ আনা (যার মূল্য আনুমানিক-৩ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা)। মোট ১৩ লক্ষ ১ হাজার ৮’শ টাকার মালামাল লুট হয়।
আব্দুস সোবহান তারেক/বার্তা বাজার/টি