প্রশাসনকে তোয়াক্কা করছেনা চায়না জাল তৈরির মালিক!

সিরাজগঞ্জে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ চায়না জাল কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর আবারও অবৈধ জাল উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এতে স্থানীয় মহলে সৃষ্টি হয়েছে নানান গুঞ্জন।

বুধবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিন গেলে দেখা যায়, নবরত্ন মন্দিরের প্রবেশ পথের পুকুর পাড়ে অবস্থিত কারখানার প্রধান কার্যালয়। এখানে জনবল ১০ থেকে ১২ জন। আর একটু এগিয়ে নবরত্ন মন্দিরের দিকে গেলেই দেখে মেলে প্রায় শতাধিক নারী অবৈধ চায়না জাল উৎপাদন করছে। উৎপাদিত জাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছানোর কাছে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন পুরুষেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানার মালিক ঈশ্বর কুমার হালদার পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গত কয়েক মাস যাবত নবরত্নপাড়া গ্রামে কারেন্ট জালের আদলে অবৈধ চায়না জাল উৎপাদন কাজ শুরু করে গোটা চলনবিলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। আর এসব কারণে নিধন হচ্ছে দেশীয় ছোট মাছ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি জানার পর র‍্যাবের সহযোগীতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গত মাসের ৭ তারিখে কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে কারখানার মালিক ঈশ্বর কুমার হালদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ প্রায় ১১ লাখ টাকার জাল উৎপাদন সামগ্রী জব্দ এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের চায়না জাল আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না শর্তে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, কারখানাটি প্রশাসন বন্ধ ঘোষণার ১৫ দিন পর থেকেই আবার চালু করছে। যেখানে জেলা প্রশাসন, জেলা মৎস্য অফিস, পুলিশ ও নৌ-পুলিশ প্রতিনিয়ত অবৈধ এসব জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু এই কারখানার মালিক রাষ্ট্রের বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে এই চায়না জাল তৈরী করে বাজার বিক্রি করছে। এগুলো এখানে প্রস্তুত করে আবার বিভিন্ন চায়না মোড়কে তা বাজারজাত করা হয়।

এতে করে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব। সচেতন মহল বলছেন, অবৈধ চায়না জাল উৎপাদনরত ফ্যাক্টরির চলে কিভাবে? চায়না জাল উৎপাদন ও বিক্রি সরকারি ভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এ কাজে যারা জড়িত তারা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। অপরদিকে এ অবৈধ চায়না জাল উৎপাদনকারী মালিকদের পেছনে যারা মদদ যোগাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি এবং খুব দ্রুত কারখানাটি বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবারও সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কারখানা মালিক ঈশ্বর কুমার উজ্জল হালদার বলেন, গত মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত আমার অনেক ক্ষতি করেছে। আর এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ভরা মৌসুমে চায়না জাল উৎপাদন করে চরা দামে বিক্রি করছি।

এ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমেদ মুঠোফোনে বার্তা বাজারকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই কারখানায় জরিমানা, সরঞ্জাম জব্দ ও অবৈধ জাল আগুনে পুড়ে ফেলা হয়েছিলো। এখন আবার চালু করেছে কিনা জানা নেই, তবে পূনরায় চালু করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম এ মালেক/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর