নকল ওসির বৌ আসল এসআই : দুশ্চিন্তায় পিবিআই

কক্সবাজারে কর্মরত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা ইয়াবাসহ আটক হন চট্টগ্রামে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কটতেই এবার আলোচনায় আসেন একই অফিসের আরেক কর্মকর্তা এসআই লাভলী ফেরদৌসী।

জানা যায়, অফিস থেকে প্রাপ্ত মামলার তদন্তে তার স্বামীকে নেওয়া হয়। সেই সাথে তার স্বামী ওসি থেকে বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। দাপুট খাটিয়ে মামলা তদন্তের নামে হাতিয়ে নেন টাকা। চাহিদা মতো টাকা না দিলে রির্পোট উল্টা পাল্টা দেওয়ার অভিযোগও আছে।

মামলার রিপোর্ট দেয়ার বিষয় নিয়ে আর্থিক লেনদেনের একটি অডিও সম্প্রতি ফাঁস হলে আলোচনায় আসেন এসআই লাভলী। এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শাজাহান লাভলীর দ্বিতীয় স্বামী বলে জানা যায়। তার সাথে কক্সবাজার কোর্টে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক হয়। প্রথম স্বামী এসআইকে তালাক দিয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা প্রতারক শাজাহানকে বিয়ে করেন।

ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়, বাদীপক্ষের জনৈক ব্যক্তি দশ হাজার টাকা দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে এসআই লাভলী বলেন, আমি যা আশা করছিলাম তার চার ভাগের একভাগও হয়নি। না না না, দশ হাজার দিলে হবে না। আমরা দু’দিক হাতে রেখে কাজ করি। অন্য রিপোর্ট দেওয়াও কোনো বিষয় না।

অডিও ফাঁস হওয়ার পর পিবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এসআই লাভলীর স্বামী শাজাহান স্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে নিজের চাচার জমি দখরে নেওয়ার চেষ্ঠা করে। সেই সাথে তার (শাজাহান) স্ত্রীর হাতে আসা মামলার তদন্তের নামে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় টাকা।

লাভলীর স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, মামলা তদন্তে প্রভাব এমন কি পুলিশ কর্মকর্তা না হয়েও নিজেই স্ত্রীর মামলা তদন্ত করার অসংখ্য অভিযোগ উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পিবিআই কক্সবাজার শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অনেকেই বিব্রত বলে জানান।

জানতে চাইলে এসআই লাভলী ফেরদৌসী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তের জন্য আমাকে তেমন মামলা দেওয়া হয় না। এরপরও আমার স্বামীর বাড়ি যেহেতু এখানে, বাদী বিবাদী হয়তো সুবিধা নিতে আমার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু, স্বামীর প্রভাব মুক্ত থেকেই কাজ করে আসছি। তবে, প্রচার পাওয়া অডিওর বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময় মামলা তদন্তে যাওয়ার সময় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে যান এসআই লাভলী। যা আইনত তিনি করতে পারেন না। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) সরওয়ার আলম বলেন, অভিযোগগুলো অবগত হয়েছি। গত ৬ মাসে লাভলীকে মাত্র একটা মামলা তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, বসতবাড়ি দখল চেষ্টার বিষয়টা তাদের পারিবারিক বলে জেনেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআই মহাপরিচালক প্রকৌশলী বনজকুমার মজুমদার জানান, ওই নারী এসআইয়ের বিরুদ্ধে উঠা কিছু অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত আছি। তবে, সেকি এখনো কক্সবাজারে কর্মরত? এমন প্রশ্ন করে পিবিআই ডিজি বলেন, আজই খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর