বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশ: বাড়তি টাকা ফেরত পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

আলিম পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে ৩ গুণ বেশি ফি আদায়ের অভিযোগ নিয়ে বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশেরর পর বাড়তি আদায়কৃত টাকা ফেরত দেয়া শুরু করেছে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের বামনী আছিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার (১৪ আগস্ট) রামপুর ইউনিয়নস্থ বামনী আছিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ফরম পূরণে ৩ গুণ বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয় বার্তা বাজারে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়ায় পরীক্ষার্থীদের উপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফুঁসে উঠলেও কিছু পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত নেয়া টাকা ফেরত দেয়ার কথা জানান এক অভিভাবক।

তিনি বলেন, আমার মেয়ের ফরম পূরণ বাবদ ৩ হাজার টাকা নিলেও ৫’শ টাকা ফেরত দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তবে যারা উপবৃত্তি পায়না তাদেরকে আরো বেশি টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। উপবৃত্তি পাওয়া ছাত্রীদের কোনো বেতন না থাকলেও বেতন বাবত কিছু টাকা নেয়া হচ্ছে বলে দাবী করেছেন অভিভাবক।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিলো, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা জানতে চেয়েও পায়নি কোনো ছাত্র-ছাত্রী। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কারো কাছে ৩ হাজার আবার কারো কাছে ৪ হাজার এবং কারো কাছে ৫/৬ হাজার টাকাও দাবী করেছে ফরম পূরণ বাবদ। উপবৃত্তি যারা পায় তারা এক টাকাও কম দিতে পারবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তখন প্রিন্সিপাল আবুল হাসনাত যোবায়েরের সাথে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বার্তা বাজারকে।

টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে জানতে প্রিন্সিপ্যাল আবুল হাসনাত যোবায়েরের মুঠোফোনে আবারো যোগাযোগ করলে তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে সাংবাদিককে তথ্য দেয়ায় পরীক্ষার্থীদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসা এক শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন, আমাদের আনেক ছাত্ররা ভুলে যায় যে এ প্রতিষ্ঠান আমাদের। মাদ্রাসা যে ছাত্রদেরকে বেশি ছাড় দিয়ে পড়াচ্ছে দিন শেষে তারাই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। নিরপেক্ষভাবে দেখতে হবে। সাধারণত মাদ্রাসার খবরগুলো বড় করে দেখানো হয়। অথচ সাধারণ প্রতিষ্ঠানে আরো বড় সমস্যা হলেও তা আলোচনায় আসে না। আসলে নিচু পাইলে সবাই চাপে। মাদ্রাসাগুলোর দুর্ভাগ্য যে সাবেক ছাত্ররাও কখনো কখনো মাদ্রাসার বিপক্ষে অবস্থান করে কিন্তু স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে চিত্রটা ব্যতিক্রম।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপিতে বলা হয়েছে, এতদ্বারা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এর আওতাধীন আলিম পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো যাচ্ছে, আলিম পরীক্ষা-২০২১ এর ফরম পূরণ বাবদ বোর্ড নির্ধারিত ফি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১ জুলাই ২০১৯ হতে ৩০ জুন ২০২১ তারিখ পর্যন্ত ২৪ (চব্বিশ) মাসের বেশি বেতন আদায় করা যাবে না।

এ ছাড়াও বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে আলিম পরীক্ষা-২০২১ ফরম পূরণ কার্যক্রমের জন্য কোন অবস্থাতেই অভিভাবক বা শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানে আসতে বলা যাবে না। এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরম পূরণ প্যানেল তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম.এস আরমান/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর