বরিশালে সংঘর্ষ: বিবৃতির ভাষায় প্রশাসনে ‘দ্বিমত’, সরকারের ভেতর অস্বস্তি

বরিশালে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার ঘটনায় দেয়া এক বিবৃতি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই অঙ্গনেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সোমবার আওয়ামী-লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেছেন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে বেশ কয়েকটি শব্দ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত’, যে শব্দটি তিনি বলছেন “কাঙ্ক্ষিত নয়। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষা। এটা ঠিক নয়”।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঐ বিবৃতির কিছু ভাষা নিয়ে সচিব এবং প্রশসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে কেন্দ্র করে গত ১৮ই অগাস্ট বুধবার রাতে বরিশালের সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান শোভনের বাসভবনে হামলা করে একদল মানুষ।

ঐ ঘটনার পরের দিন রাতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভার পর হামলার ঘটনায় একটি বিবৃতি দেয়া হয়।

এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা বরিশালের ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, সরকারি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে একজন নির্বাহী অফিসার কীভাবে ”রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের” দ্বারা হেনস্থা হয়েছেন।

‘মিসকিউনিকেশন’ কারণ হতে পারে
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান যে, রোববার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এই বিবৃতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেই বৈঠকের বরাত দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম বলেন যে, সেখানে বেশিরভাগ সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনাররা ওই বিবৃতির ভাষার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

মি. ইসলাম বলেন, মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা মনে করছেন, তার ভাষায় ‘মিসকমিউনিকেশন’ বা ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে।

অনেকটা একই ধরনের মত দিয়েছেন আওয়ামী-লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদও। তিনি মনে করেন, এ ধরণের বিবৃতি পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার কর্মকর্তাদের বক্তব্য নয়।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু একটি ঘটনা ঘটলে যে সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বিবৃতি দেবেন এই বিবৃতি কাঙ্ক্ষিত নয়।”

তার মতে, “অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের যে নেতৃবৃন্দ, তাদের নিজেদের মধ্যেই হয়তো কোন সমস্যা ছিল, তা না হলে এরকম একটি বিবৃতি তারা দিতে পারে না।”

তিনি বলেন, আমলারা হচ্ছে সরকারি কর্মচারী যাদের কাজ রাজনৈতিক সরকারের অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করা।

তিনি আরও বলেন, এটা ছাড়া তাদের অন্য কোন অ্যাজেন্ডা নেই এবং নিজস্ব কোন সত্ত্বাও নেই।

তবে আমলাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক সরকারের সাথে কোন বিরোধ নেই বলেও জানান ড. সেলিম মাহমুদ।

সীমারেখা লঙ্ঘন

এদিকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের বিবৃতির এমন ভাষা নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন সাবেক আমলারাও।

তারা বলছেন, যেহেতু সরকারি কর্মকর্তাদের কল্যাণের জন্যই এই সংগঠনটি করা হয়েছে তাই তারা বিবৃতি দিতে এমনকি বিচারও চাইতে পারেন। তবে সেখানে এধরনের ভাষা ব্যবহার করাটা ঠিক হয়নি।

এতে বিবৃতি দেয়ার সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক একজন সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান।

গত ১৮ই অগাস্ট রাতে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ একজন কাউন্সিলরসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে যারা মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী বলে পরিচিত।

পরে অবশ্য ইউএনও এবং স্থানীয় থানার ওসির বিরুদ্ধেও আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর এবং একজন কর্মকর্তা।

যেখানে, ”সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কাজে বাধাদান ও হামলার” অভিযোগ আনা হয়।-বিবিসি বাংলা।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর